মেয়ে পটাতে আমার গুরুর উপদেশ শিরোধার্য কারন তা পরীক্ষিতভাবেই অব্যর্থ। তিনি আমাকে সবসময়ই উপদেশ দিয়ে গেলেন-হয় টাকা খরচ কর তা না থাকলে সময় খরচ কর!এই দুই জিনিষ থাকলেই হবে,আর কিচ্ছু লাগবেনা।আমি বলি,গুরু বাদ আর রাখলেন কি?
তবে তাতে ঝুঁকি আছে ঢের, টাকা কিংবা সময় এই দুটোর বিনিয়োগই যে মুনাফার নিশ্চয়তা দেবে এমনটি কিন্তু নয়।সব বিনিয়োগের মত এটাও একি শর্ত মেনে চলে,মুনাফা প্রাপ্তির সম্ভাবনার আধিক্য যত বাড়বে,ঝুঁকি ও সমান তালে বেড়ে চলবে।
তাই নারী পটাতে দরকার বাড়ী,তবে তারচেয়ে ও আজকাল জরুরী হল একখানা গাড়ি। প্রেমিকাদেরই বা দোষ দেই কিভাবে?আজকাল রাস্তা-ঘাটের যে হাল,এই চাওয়া তো বিলাস নয় প্রয়োজনের তালিকায় জায়গা নিয়েছে।লোকে তাই বলে,গাড়ী থাকলে প্রেম করতে খুব সুবিধা।মেয়ে পটানো নাকি তখন হাতের মোয়া!
এই কথা ভুল প্রমান করতেই আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সুন্দরী সহপাঠীকে পটিয়েছি।কাকতালীয় ভাবে আমাদের দুজনের বাসা একই পাড়ায় যা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেশ কাছে যার জন্য গাড়ী নয় রিকশা করেই আসা যায়।প্রেমের আকূলতা প্রকাশ করতে গিয়ে প্রথমেই দ্বারস্থ হয়েছিলাম সুনীল গাঙ্গুলীর।ওকে বলেছি-তোমার জন্য সব করতে পারি?ও বলল, সে আবার কেমন?আমি বলি,পুরো বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে এনে দিতে পারি ১০৮টা নীল পদ্ম।ও তখন মুচকি হেসে বলে,ও পদ্ম-ফদ্মে আমার আগ্রহ নেই,আপাতত আমাকে রোজ রিকশা করে বাসায় পৌছিয়ে দিলেই হবে!
সেই থেকে আমাদের একসাথে রিকশায় আসা-যাওয়া।একই পাড়ায় বাসা,তাতে সুবিধেই হল। মনের সুখে প্রেম করি আর চোখে আঙ্গুল দিয়ে তখন আমার নিন্দুকদের দেখিয়ে বলি,ব্যাটারা দ্যাখ,গাড়ী ছাড়াও প্রেম হয়।
তবে আসল ঘটনাটি ঘটেছে অনেক পরে।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তির সাথে সাথে আমার প্রেমিকার ও তখন আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে।কারন তখনই আমি বুঝতে পারলাম এখনতো আর বাড়ী ফেরার তাড়া নেই বরং বাড়ীওয়ালা কিংবা গাড়ীওয়ালা প্রয়োজন। তাই আমার মত রিকশাওয়ালা ছেড়ে তিনি এরপরে গাড়ীওয়ালা বাগিয়ে নিয়েছেন আর তাই দেখে আমার শুভাকাংখিরাও এখন আমায় নিয়ে হাসে!মনে মনে ভাবি,যাই হোক খালি রিকশা ভাড়ার উপর দিয়ে গেছে,ডিজেল আর সিএনজির উপর দিয়ে যায়নি!
তবে আজকাল আর কিছু ভাবতে হয়না,আমাদের সব ভাবনার গুরুদায়িত্ব নিয়েছে বহুজাতিক কোম্পানীগুলো আর তাদের বিজ্ঞাপনী সংস্থা।কিভাবে খাব,কিভাবে ঘুমাব,কি খাব,কি পরতে হবে,কি করতে হবে,কিভাবে রান্না করতে হবে,কিভাবে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে হবে,কি গান শুনতে হবে এমনকি কিভাবে দেশকে ভালোবাসতে হবে তার দিকনির্দেশনা ও দিচ্ছে তারা।তার উপর দু-দিন বাদে একটা একটা করে দিবস বের করে বিজ্ঞাপনীয় ঘটা করে উদযাপন করা।এরপর মা দিবস,বাবা-চাচা দিবস,ভালোবাসা দিবস,শুয়ে পড়া দিবস,উঠে পড়া দিবস,তামাশা দেখার দিবস,এরকম নানা দিবস আসে,আর আমার প্রেমিকাদের দিবস উছিলায় উপহার দিতে দিতে পকেট ফাঁকা হয়ে পড়ছে।মনে হয় এই সব দিবসের আগে আমাদের কারো মা-বাবা,চাচা-মামা ছিলনা।আমরা ভালোবাসতে ও জানতামনা।এমনকি বিশ্ব হাত-ধোয়া দিবস ও আছে।আর ওদের ভাব দেখে মনে হয় যেন এই জীবনে এর আগে আমাদের কারো হাত ধোয়া হয়নি।ওরাই শেখাল আমাদের।আশঙ্কায় আছি,কদিন বাদে না যেন আবার আমার নামটা নিয়েও কিছু শুরু করে দেয় কিনা! এই যে আমার ‘রবিউল’ চাচার নাম ও ধার করে পেটেন্ট করে ফেলছে ওরা।
আমার এক বিলাত শিক্ষিতা প্রেমিকা আবার এরকমই এক সংস্থায় চাকুরী করে। ওই আমাকে বলে-‘দেখেছো এরেই বলে মার্কেটিং।কিভাবে বিপণন আর বাজারজাত করার জন্য বাজিমাত করে দিতে হয়।আসল কথা হল,ম্যাংগো-পাবলিককে খাওয়ানো’।আমি বলি-ব্যাপারটা এতই সোজা?ওর সাফ কথা-উঠতে বসতে খেতে ঘুমাতে চলতে ফিরতে এমন বিজ্ঞাপনের শক দিয়ে যাচ্ছি,পাবলিকের পালানোর পথ নেই!
আমি ওর মিষ্টি কথায় চিড়ে ভিজতে দেইনি,ওকে বলে দিয়েছি-
‘রবি রবি করে রব তুলে ভাবছো বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে, নেটওয়ার্ক ঠিক করে কাস্টমারের মঙ্গল না হলে সব শুক্র বেরিয়ে শনির দশা হবে।তাতে লাভের আকাশে সোমের দেখা মিলবেনা,আর এটা বোঝার জন্য বুধ হবার প্রয়োজন নেই’।


৫১ টি মন্তব্য
ভালো ছিলো দোস্ত, না পইড়াই কইলাম। হা হা হা,পড়ছি,তোর লেখা ভালো না হওয়ার সুযোগ নাই।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
মান্নাদা, বরাবরের মতনই জটিল লেখা…
বস আপনি প্রতি লাইনের পর একটা স্পেস দেন না কেন? আপনার মতন লোকেরাই রাজউক এর নিয়ম ভেঙ্গে রাস্তার জন্য জায়গা না ছেড়েই বাড়ি বানায়…
[ জবাব দিন ]
আমার মধ্যে ভূমিদস্যূতার স্বভাব রয়েছে, এক বিন্দু জায়গার দখল ও ছাড়বোনা।
আসল কথা হল,বাংলা টাইপিং এখনও শেখার পর্যায়ে আছি, তাই এই হাল!
ভাবছি একটা সুন্দরী পি.এ. রাখবো যে আমার টাইপ করে দিবে।
[ জবাব দিন ]
তারে নিয়ে আমার প্রেমিকারা-?? লিখিয়েন বস
[ জবাব দিন ]
সবাইকে নিয়ে লেখার বিপদ আছে।
[ জবাব দিন ]
জটিল ……
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
কপালে থাকতে হয়!!!
[ জবাব দিন ]
১ টা জিনিস জানতে মঞ্চায়।
৩৬৫ দিনে মোট কতগুলা দিবস আসে?
[ জবাব দিন ]
এটা বের করার জন্য ৩৬৫ জনের একটা কমিটি করা যেতে পারে।
[ জবাব দিন ]
আমাদের রবিউল আর তার বউয়ের কথা মনে পড়ে গেল।
[ জবাব দিন ]
আহা, বেচারীর নামটাই রবিউলের বউ হইয়া গেলো
[ জবাব দিন ]
হ ভাই,আমিও ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তিত,
আমার নামও তো কম নাই
[ জবাব দিন ]
রবিনের নামে ও রবি আছে!!!
[ জবাব দিন ]
ভাল বলছিস মান্না। আমরা সবাই তোর “খোজ- the search” এর উপর একটা লেখা আশা করতেছি।
[ জবাব দিন ]
তোফা! তোফা!
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
সাব্বির নামের ছেলেরা দেখি ফাঁকিবাজ হয়। শুধু ইমো দিয়ে কমেন্টের জন্য অনেকে এর আগে মডুদের সাবধানবাণী শুনেছে। তোমাকে আগেই সাবধান করে দিলাম , মডুদের লিস্টে উঠে যাবা…
[ জবাব দিন ]
ভাই। সময়মতো সাবধান করে দেওয়ার জন্যে অনেক অনেক থ্যাঙ্কু আর অনেক অনেক
…এই
দিলাম
আমি মডু দের লিস্টে যামুনা,মাফ চাই
অফ টপিকঃ
……ভাই ,ঘটনা সত্য
[ জবাব দিন ]
এরা আসলে ফাঁকিবাজ নয়,জায়গা বুঝে ফাঁকি মারে।
[ জবাব দিন ]
মেয়েরা বড়ই নিষ্ঠুর ।
[ জবাব দিন ]
কিরে তুই কার নিষ্ঠুরতার শিকার?
[ জবাব দিন ]
কারো না ।
এই যে সবার কাছে শুনি , বইতে পড়ি , ছিনেমায় দেখি । সবখানেই তো দেখি মেয়েরা বড় নিষ্ঠুর ।
[ জবাব দিন ]
কোন ফল যেন টক হয়? ভুলে গেছি।
[ জবাব দিন ]
মান্না ভাই,আপনার m@nna’s লাভ কোচিং কেমন চলতেছে?ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি আপনি তো জটিল জানেন ভাই,শিজ্ঞিরি আপনার ব্যাপক প্রসার কামনা করছি,প্রচারটা না হয় আমরাই করলাম
এই কে আছিস জুনিওরেরা,শিজ্ঞিরি মান্না ভাই এর লাভ কোচিং এর জন্য প্রচারে নাইমা যা,ফ্রী ফ্রী ফিল্ডিং মারার সুযোগ পাবি
আমি এসব থেকে তফাতে আছি আজকাল
ভাই……আমার প্রেমিকারা-১০০ পড়ার স্বপ্ন দেখতেছি
[ জবাব দিন ]
দেশতো স্বপ্নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে,তুই আর বাদ থাকবি কেন?
আমার ঢোল ফাটায়ে ফেলিসনা,খুব সাবধান।
[ জবাব দিন ]
বরাবরের মতোই সেইরকম……
[ জবাব দিন ]
পোলাপাইন সবাই এত ভাল লেখে কেন? নিজে যে কিছু লিখব আর সাহস কইরা উঠতে পারি না।
[ জবাব দিন ]
ভাই, সাহস করে উঠতে না পারেন, শুয়ে পড়তে দোষ কি?
আপনারা এইসব বলে আর কতদিন ফাঁকি মেরে যাবেন।
[ জবাব দিন ]
জটিল হইসে জীবিত মান্না ভাই
[ জবাব দিন ]
ঠিক ধরেছিস, এখনও জীবিত, বিবাহিত নই।
[ জবাব দিন ]
১ টা ইমো দেয়ার দিবস ও রাখা উচিত ।
[ জবাব দিন ]
আইডিয়াটা কিন্তু মন্দ না !!
[ জবাব দিন ]
তাইলে তারিখটা ঠিক করেন
[ জবাব দিন ]
ব্লগে যে ইমো বেশি দেয় তারে এই দায়িত্বটা দেয়া দরকার।
কারে যে দেয়া যায়?
[ জবাব দিন ]
আমি
[ জবাব দিন ]
রবিন ভাই তারিখ বলেন।
আর রবিন ভাইকে ইমো দেয়ার জনক হিসেবে ভূষিত করার আহ্বান জানাই।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
ফোতা ফোতা!!
[ জবাব দিন ]
তোতা তোতা
পাখির মত,
গালি শুনবি
শত শত !!!
[ জবাব দিন ]
প্রেমিকাদের নিয়ে মনে হয় একই জায়গায় বেশ কিছুদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছ। এবার একটু বেলতলা বা ছাদনাতলার দিকে পথ বাড়াও – আমরাও একটু দেখি বেল ভাংগে না তোমার মাথা ভাংগে।
[ জবাব দিন ]
আপু আমি ন্যাড়া নই, তবু ও বেলতলায় যাবার খায়েশ হয়নি।
[ জবাব দিন ]
মাত্র ১০ পর্যন্ত আসলেন, সেঞ্চুরির অপেক্ষায় আছি
[ জবাব দিন ]
নারে হিন্দী সিরিয়ালের মত অতদূর টেনে নেবার কোন ইচ্ছে নেই।
[ জবাব দিন ]
সব সময়ের মতই প্রিয়তে ভাইয়া{যদিও আমার প্রিয় নাই
}
বেশি বেশি josh
[ জবাব দিন ]
ওরে বাবা, আমার ও দেখি ফ্যান গজাইছে।
[ জবাব দিন ]
লেখাটা ডেফিনেটলী খুবই এন্টারটেইনিং হইছে, কিন্তু মেয়েদের যেমন পচানো পচাইছো, শুধু ক্যাডেটের দোহাই দিয়া ছাইরা দিলাম । না হলে দেখতা,



)
(বাট, পড়তে মজাই লাগছে
[ জবাব দিন ]
আপু,আমার কপাল ভালো আপনি বোধহয় আমার আগের লেখাগুলো পড়েননি।পড়লে আমাকে মেরেই ফেলবেন বলে মনে হচ্ছে।
তবে আসল কথা হল,এটা অনেকাংশে স্যাটায়ারধর্মী লেখা।
নারীকে পচানো আমার সাধ্যের ও অতীত তাতে ভয় হয় নিজের জননীকেই ছোট করে ফেলি কিনা?
তবে আমি নারীবাদী নই,এই শব্দটারে আমার গালি বলে মনে হয়।
আমি মানুষের অধিকারে বিশ্বাসী একজন অতি সাধারণ মানুষ।
[ জবাব দিন ]
‘রবি রবি করে রব তুলে ভাবছো বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে, নেটওয়ার্ক ঠিক করে কাস্টমারের মঙ্গল না হলে সব শুক্র বেরিয়ে শনির দশা হবে।তাতে লাভের আকাশে সোমের দেখা মিলবেনা,আর এটা বোঝার জন্য বুধ হবার প্রয়োজন নেই’।
[ জবাব দিন ]