random header image

দেশে কি এমন কেউ ছিলো না

ঢাকা থেকে ফোন এলো।
- দোস্তো, ঘুমাতে পারছি না।
- কেনো, কি হলো আবার?
- ঐ পাঁচ জন অফিসারের ফাঁসি হয়ে গেলো কিছু আগে।

সকালে অফিসে আসার আগে স্যাটেলাইট টিভিতে বাংলাদেশের খবরে শুনেছিলাম যে ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত ঐ পাঁচ জন অফিসারের আত্মীয়-স্বজনকে জেলে তাদের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়েছে। তবে ভাবিনি যে আজই এই ফাঁসির আদেশ কার্যকর হবে।

আমেরিকা থেকে হঠাৎ করে ৩৫ বছরের আগের বাংলাদেশে যেন ফিরে গেলাম। ১৯৭৫ সাল ব্যক্তিগত ভাবে আমার জন্যে বিশেষ স্মরণীয়। এ বছরই আমাদের প্রথম সন্তানকে হারাই আমরা। প্রায় তিন সপ্তাহ হাসপাতালে অসহ্য যন্ত্রনা সহ্য করে আমাদের থেকে বিদায় নিলো লাবনী জুন মাসের ২ তারিখে। ৩৫ বছর অনেকগুলি দিন – তবুও সে দিনের সব স্মৃতি এখনো স্পষ্ট মনকে নাড়া দিতে থাকে – কষ্টটাকে কিছুতেই দূর করতে পারিনা।

যখন ১৫ই আগষ্টের ঘটনা জানলাম তখনো আমরা আমাদের ব্যক্তিগত শোকে কাতর। আমাদের বাসা থেকে ধানমন্ডীর ৩২ নম্বর খুব দূরে ছিলো না। আমরা তখন সেন্ট্রাল রোডের এক বাড়ীতে থাকতাম। শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার থাকতেন উপরের তলায় আর পাশের বাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর ছোট বোন। আমার এক আর্মি বন্ধুকে ফোন করলাম কি হচ্ছে জানার জন্যে। সে খুব একটা কিছু জানতো না। তবে বুঝলাম সেও অস্থিরতার মধ্যে আছে। আমাকে বললো, খামোখা ফোন-টোন না করে চুপ-চাপ বাড়ীতে থাকো। কিছুক্ষনের মধ্যে রেডিওতে ডালিমের ঘোষণা শুনলাম। ডালিম এবং তার ভাই স্বপন (ফৌজিয়ান) – এরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। মাত্র তিন বছরের মধ্যে কতটা বদলে গেলো সব কিছু।

মাত্র কিছুদিন আগে কথা হয়েছিলো কামালের সাথে সোহেল-সালমানের বাড়ীতে। এরা দুই ভাই তখন ধানমন্ডীর ১নং রোডে তাদের মায়ের সাথে থাকতো। সেখানে কোন অনুষ্ঠান থাকলে আমরাও যেতাম। বেস্কিমকো তখন অন্য রকম ছিলো – এক ছোট পরিবারের মতো। আমি যখন প্রথম বারের মতো বিদেশে, সুইজারল্যান্ডে, গেলাম তখন তাদের মা আমার স্ত্রী একাকী ঠিক মতো আছে কিনা দেখতে নিজে আমাদের বাসায় এলেন। আমার একদিন জ্বর হওয়াতে আমার স্ত্রীর ফোন পেয়ে সোহেল তখনই ছোট ভাই সালমানকে পাঠালো ডাক্তার সাথে করে আমাকে দেখার জন্যে।

কামাল ও সালমান ছিলো ঘনিষ্ট বন্ধু। কামালের ব্যবহার খুব অমায়িক ছিলো। যখনি দেখা হতো, নিজে থেকে আমার কুশলাদি জানতে চাইতো। তাদের আর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলো শাহান (সাখাওয়াত মুবিন চৌধুরী) । আমার মনে পড়ে, আমার মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শাহান ছুটে এলো আমার বাসায়। আমি তখন আমার মেয়ের মৃতদেহ জড়িয়ে ধরে আমাদের ঘরের সংলগ্ন বারান্দায় কংক্রিটের মেঝেতে পড়ে আছি। আমার স্ত্রী তখনো অসুস্থ এবং শয্যাশায়ী। বনীর মৃত মুখ দেখার মতো মনোবল তখন তার আর ছিলো না। মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে যখন কলেরা হাসপাতাল থেকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে অপারেশন করাতে নিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন কিছুক্ষণের জন্যে বনীকে বাসায় এনেছিলাম তার অসুস্থ মাকে দেখাতে। দীর্ঘ ১৮ দিন পরে মা আবার তার মেয়েকে দেখতে পেলো। বুকের দুধ খাওয়ালো মেয়েকে। বনীর দুধ খাওয়াকে পরম স্নেহ ভরে তাকিয়ে দেখলো মা। কে ভেবেছিলো যে এই দেখাই তার শেষ দেখা হবে। এর আগের দিন আমার রক্ত দেওয়া হয়েছিলো বনীর শরীরে। তার সুন্দর চেহারা আরও সুন্দর হয়ে উঠেছিলো নতুন রক্ত পেয়ে। বনীর এই চেহারাটাই মনের মধ্যে চির দিনের মতো ধরে রাখতে চাইলো পিংকু – তাই তার মৃত ফ্যাকাসে মুখ আর দেখতে চাইলো না। আমি তার মনের ভাব বুঝতে পেরে আর তাকে অনুরোধ করলাম না। আমি বারান্দায় একাকী আমার মেয়েকে বুকে জড়িয়ে পড়ে থাকলাম। শাহান আমার কাছে এসে সযত্নে আমার পা থেকে জুতা খুলে নিলো যাতে আরও একটু স্বাভাবিক ভাবে মেয়েকে কোলে নিয়ে শুয়ে থাকতে পারি আমি। আজিমপুর কবরস্থানে সোহেল, সালমান, শামসুল হক – আমার অন্য কিছু আর্মি বন্ধু – সবাই এলো যখন আমি আমার আদরের ছোট মনিকে তার ছোট মাটির ঘরে নিজে হাতে শুইয়ে দিচ্ছি।

কিছুদিন পরে এক কাজে আমার সিংগাপুরে যাবার কথা ছিলো। বেক্সিমকো উৎসাহ দিলো আমার স্ত্রীকে সাথে নেবার জন্যে। এর মধ্যে ১৫ আগষ্টের ঘটনায় যাওয়া একটু পিছিয়ে গেলো। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে সিংগাপুরে নামলাম আমরা। সেখানে যাবার তৃতীয় দিনে হঠাৎ করে এক ধরনের ভাইরাস জ্বর ধরলো আমাকে এবং শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ছুঁয়ে ফেললো। সিংগাপুরে তখন কোন পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশ দূতাবাস ছিলো না। একজন কমার্শিয়াল রিপ্রেজেনটেটিভ বাংলাদেশ মিশনের কাজ পরিচালনা করতেন। তখনকার মিশন প্রধান ছিলেন আমার স্ত্রীর এক চাচা। তিনি খবর পেয়ে এক ডাক্তার পাঠিয়ে দিলেন হোটেলে আমাকে দেখার জন্যে। এক ইনজেকশনে ডাক্তার আমার জ্বর নামিয়ে দিলেন। তবে যখনি আমি বাথরুমে যাবার জন্যে বিছানা ছেড়ে উঠলাম, মাথা ঘুরে সোজা মেঝেতে যেয়ে পড়লাম।

পরের দিন চাচা এসে আমাদেরকে হোটেল থেকে তাদের বাড়ীতে নিয়ে উঠালেন। খুব সুন্দর ছিলো চাচার পরিবার। তার দুই মেয়ে আমাদের জন্যে তাদের ঘর ছেড়ে এক ঘরে থাকলো এবং একটা ঘর আমাদেরকে ছেড়ে দিলো। আমি ধীরে ধীরে আমার শক্তি ফিরে পেতে শুরু করলাম।

তখন সিংগাপুরে খুব বেশী বাংলাদেশী থাকতো না। ১৫-ই আগষ্টের পর সম্ভবত আমরাই প্রথম সেখানে গেলাম। যখন এক ভারতীয় মহিলা সাংবাদিক আমাদের আগমনের কথা জানতে পারলেন তখন তিনি চাচার সাথে যোগাযোগ করে আমাদের সাথে দেখা করতে এলেন। তিনি আমার অভিজ্ঞতার কাহিনী আমার মুখ থেকে জানতে চাইলেন। বিশেষ করে তিনি বুঝতে চাইছিলেন যে মাত্র তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের জাতির জনকের এমন অপমৃত্যু আপামর জনতা বিশেষ কোন প্রতিবাদ ছাড়াই কী করে মেনে নিতে পারলো।

আমরা যখন বিদেশ ভ্রমণ করি তখন আমরা সবাই দেশের অঘোষিত রাষ্ট্রদূত হয়ে পড়ি। যখন এই সাংবাদিক মহিলা আমাকে প্রশ্ন করলেন যে এই হত্যাকান্ডের কোন প্রতিবাদ হলো না কেনো – আমি সাধারণ মানুষের পক্ষ হয়ে সব ধরনের অজুহাত তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। আমি বলার চেষ্টা করলাম যে স্বাধীনতার পর স্বাভাবিক ভাবেই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গিয়েছিলো। সোনার বাংলার জন্যে বেশী দিন অপেক্ষা করার মতো ধৈর্য্য বা ক্ষমতা কোনটাই সাধারণ মানুষের বেশী ছিলো না। বাকশাল সৃষ্টি, অন্য সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষনা, অনেক সংবাদ পত্রের প্রকাশনা বন্ধ, রক্ষী বাহিনী সৃষ্টি, দূর্নীতি ও ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষ – এর কোনটাই সাধারণ মানুষের মনবল বাড়াতে সাহায্য করেনি। অভুক্ত লোকের মৃতদেহ ঢাকার রাস্তায় পড়ে থাকা একটি সাধারণ দৃশ্যে পরিণত হয়েছিলো। আমি নিজে চোখে সায়েন্স ল্যাবরেটরীর সামনে মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখেছি যখন ঐ রাস্তায় যাতায়াত করেছি।

ভদ্রমহিলা কোন কথা না বলে আমার সব কথা শুনলেন এবং মাঝে মাঝে তার নোট বইতে কিছু নোট নিলেন। অবশেষে আমার সব কথা শেষ হবার পর তিনি শুধু বললেন – কিন্তু দেশে এক জনও কি এমন কেউ ছিলো না, যে সর্ব সম্মুখে দাঁড়িয়ে জাতির জনকের সমগ্র পরিবারের এমন নৃশংস হত্যাকান্ডে কিছু চোখের জল ঝরাতো?

সেদিন আমি তার সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি।

আজ, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর, যখন জানলাম যে দোষীদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে এবং দেশের লোক এই খবরে উল্লাস প্রকাশ করছে তখন আবার সেই প্রশ্ন আমার মনে এলো – কিন্তু দেশে এক জনও কি এমন কেউ ছিলো না, যে সর্ব সম্মুখে দাঁড়িয়ে জাতির জনকের সমগ্র পরিবারের এমন নৃশংস হত্যাকান্ডে কিছু চোখের জল ঝরাতো?

দোষী কি শুধু যাদের ফাঁসি হলো তারাই ছিলো??

শেয়ার করুন
৭ votes, average: ৫.০০ out of ৫৭ votes, average: ৫.০০ out of ৫৭ votes, average: ৫.০০ out of ৫৭ votes, average: ৫.০০ out of ৫৭ votes, average: ৫.০০ out of ৫ (ভোট, ৫.০০/ ৫)
রেটিং করার জন্য আপনাকে রেজিস্টার্ড সদস্য হতে হবে
Loading ... Loading ...
প্রকাশিত লেখা বা মন্তব্য সম্পূর্ণভাবেই লেখক/মন্তব্যকারীর নিজস্ব অভিমত। এর জন্য ক্যাডেট কলেজ ব্লগ কর্তৃপক্ষকে কোনভাবেই দায়ী করা চলবেনা।

৩০ টি মন্তব্য

  1. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৭:৫৬ পূর্বাহ্ন |

    আপনার লেখাটা আগেই পড়েছিলাম। আবারো পড়লাম। সত্যি বলছি সাইফ ভাই, ‘৭৫-এ চোখের পানি ফেলার জন্য কেউ ছিল কিনা দেখিনি। বুঝের সময় থেকে শুনে এসেছি কেউ নাকি কাঁদেনি। সবাই উল্লাস করেছে!!

    কিন্তু আজ ৩৪ বছর পর অনেকেই হয়তো ফাঁসির ঘটনায় উল্লাস করছে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের লোকজন। আর নতুন প্রজন্ম, আমাদের মতো অনেকে, যাদের বেশির ভাগ বর্তমান ধারার রাজনীতি করেনা, তারা বঙ্গবন্ধুর জন্য কাঁদছে। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। কলংকের দায় মোচনে অপরাধ বোধ থেকে মুক্তি পেয়েছে। এখন আমরা জোর গলায় বলতে পারবো, আমাদের মুক্তির নায়ককে যারা খুন করেছে শেষ পর্যন্ত তাদের বিচার হয়েছে।

    আরো দোষী শুধু এরাই ছিল কিনা সেটা আপনিও জানেন, জানি আমরাও। ইতিহাস ওদের আবর্জনার ঝুড়িতেই স্থান দিয়েছে।

    [ জবাব দিন ]

    মরতুজা (৯১-৯৭)
        জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৯:০২ পূর্বাহ্ন |

    শেষ লাইনে দ্বিমত। তৎকালীন সেনাপ্রধান তো শুনি এখনো বহাল তবিয়তে লীগের উচ্চপদেই আছে। রক্ষীবাহিনী প্রধান তোফায়েল সাহেবও তো বহাল তবিয়তে। আবর্জনার ঝুড়িতে তো কাউকে দেখি না।

    সবাই হাসিনার পদতলেই আছে, আর সাথে কলাটা মুলোটাও খেয়ে যাচ্ছে। হাসিনাও তো সব জেনেই এদের আনুগত্য গ্রহন করেই আছেন। তিনিও জানেন যারা ওই আবর্জনার স্তুপে যাবার যোগ্য তাদের সত্যি সত্যি সরিয়ে দিলে ওনার গদি ঠিক থাকবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

    গদিই ধর্ম, গদিই সব।

    মূল প্ররোচনাকারি জিয়াও তো দেবতার আসনে। আর যদি বলেন দেশের সবাই জানে কে কি করেছিল, তা দিয়ে কি আসল বিচার হয়? নিজামী, মুজাহিদ যতই ঘৃন্য হোক না কেন, ওরাই তো পতাকা উড়িয়ে যায় রাস্তা দিয়ে। আর সে সুযোগ খালেদা হাসিনা দুই জনেই করে দিয়েছেন। আর হাসিনার বেয়াই মহাসাহেব ওই কি জানি আদম-পাচার মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী, তিনি তো দেখি জমিদারি স্টাইলে ছড়ি নিয়ে বেড়ান, উনিও নাকি খাঁটি রাজাকার। আর ওদিকে হাসিনার সরকার নাকি যুদ্ধাপরাধিদের বিচার করবে। ফুঃ। নিজের মেয়েকে রাজাকারের সাথে বিয়ে দিয়ে বেয়াইয়ের বিচার? আর সেটাও বাংলার ম্যাঙ্গোপাব্লিক বিশ্বাস করে।

    তাই কে যে আবর্জনার ঝুড়িতে তা নিয়ে সন্দেহ জাগে। আমাদের মত আমজনতা(=আমছাগল) ছাড়া তো আর কাউকে দেখিনা।

    [ জবাব দিন ]

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        জানুয়ারি ২৯, ২০১০ at ১২:১০ পূর্বাহ্ন |

    মরতুজা, তোমার দ্বিমত নিয়েই বলি। সে সময়ের সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ হত্যাকারী বা হত্যাকারীদের সহযোগী কিছুই ছিল না। হ্যা, সেনাপ্রধান হিসাবে তিনি যোগ্য ছিলেন না, সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় তার ব্যর্থতা অপরিসীম। তার কথা কেউ শুনতো না। সেনাবাহিনীতে তখন প্রচুর উপদল ছিল। তার চরম ব্যর্থতা বঙ্গবন্ধুকে রক্ষায় ব্যর্থতা।

    তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। রক্ষীবাহিনীর প্রধান ছিলেন অন্য একজন, ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামান। বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় নুরুজ্জামান দেশের বাইরে ছিলেন। খালেদ মোশাররফের অভ্যূত্থানের সঙ্গে তিনি জড়িত হয়েছিলেন। ৭ নভেম্বর সেটা ব্যর্থ হলে নুরুজ্জামান পালিয়ে ভারত চলে যান। আর শেরেবাংলা নগরে রক্ষীবাহিনীর সদর দপ্তরের বাইরে একাধিক ট্যাংক বসিয়েছিল খুনিচক্র। যদিও অনেক পরে জানা যায়, ওইসব ট্যাংকে গোলাবারুদ ছিল না।

    রক্ষীবাহিনীর বিষয়ে তোফায়েল আহমেদের ক্ষমতা কি ছিল জানি না। দুটো বই ঘেটেও কিছু পেলাম না। তবে কর্নেল শাফায়াত জামিল ১৬ আগস্ট তোফায়েল আহমেদের বাসায় গিয়েছিলেন। শাফায়াত জামিল লিখেছেন, খুনিচক্রের সদস্য ডালিম, নূর, শাহরিয়ার, মাজেদরা এর পরপরই তোফায়েলকে বাসা থেকে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করে। তাকে মোশতাকের সরকারে যোগ দেওয়ার জন্য বেশ চাপ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তোফায়েলের এপিএস শফিকুল আলম মিন্টুকেও এরা ধরে নিয়ে নির্যাতন করে এবং “ঠান্ডা মাথায় গুলিতে হত্যা” করে। ক্যাপ্টেন মাজেদ ছিল মিন্টুর খুনি।

    মরতুজা, সে সময় সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন প্রচণ্ড বিশৃঙ্খল ছিল। দলাদলি ছিল দলে। মোশতাক-চাষী চক্র তৈরি ছিল। আবার তারাই ছিল বঙ্গবন্ধুর ঘণিষ্ট। সেনাপ্রধান ছিলেন মেরুদণ্ডহীন। জিয়াউর রহমানসহ আরো অনেকের নানা উচ্চাভিলাষ ছিল। কারণ সিনিয়র হলেও বঙ্গবন্ধু তাকে দায়িত্ব না দিয়ে সফিউল্লাহকে সেনাপ্রধান করেছিলেন। সিআইএ সক্রিয় ছিল। তারাই পুরো অভ্যূত্থানের পরিকল্পনা করে। মোশতাক-ফারুক-রশিদ চক্রকে সিআইএ মদদ দিয়েছিল।

    এই মামলায় বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের বিচার হয়নি। একে উদঘাটনের চেষ্টাও হয়নি। আওয়ামী লীগ সাহস করেনি। বিচার হয়েছে হত্যাকাণ্ডের। ষড়যন্ত্র উদঘাটনের চেষ্টা হলে হত্যার বিচার হতো কিনা সন্দেহ। তাহলে অনেকে জড়িয়ে পড়বে। সেই জাল কি আদৌ গোটানো সম্ভব হতো??

    [ জবাব দিন ]

    ফয়েজ (৮৭-৯৩)
        জানুয়ারি ২৯, ২০১০ at ৭:২১ পূর্বাহ্ন |

    জিয়াউর রহমানের উচ্চাভিলাষ এর কথা একটু ডিটেইল বলবেন।

    প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছিল যে দলিল (আমেরিকান এম্বেসী) তাতে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ছিল বলে মনে হয়নি, ৭ ই নভেম্বর এর আগ পর্যন্ত, বরং রাজনৈতিক ভাবে উচ্চাভিলাষী ছিলেন খালেদ মোশাররফ, যিনি মোস্তাকের কাছে সেনাবহিনীর চিফ হবার জন তদ্বির নিয়ে গেছেন। জিয়ার মধ্যে ছিল হতাশা, কারন তার চেয়ে জুনিয়র তার উপরের পোস্টে ছিলেন।

    জিয়াকে লাইম-লাইটে নিয়ে আসেন কর্নেল তাহের, তাই তো জানি, এর আগ পর্যন্ত জিয়া কি নিছক জেনারেলের বাইরে আর কিছু ছিলেন? তথ্য আছে? এই যেমন ধরেন রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী জেনারেল বা এই ধরনের কিছু?

    বংগবন্ধুর ষড়যন্ত্রের কথা জিয়া জানতেন, কিন্তু কতটুকু জানতেন তা কি পরিস্কার আছে? ফারুক নিজেও তো বলেছেন তিনি ব্যাপারটা ঘুরিয়ে বলেছেন জিয়াকে, পরিবর্তন এর কথা বলেছেন, জিয়া তাতে সায় দিয়েছেন। আমার তো ধারনা পরিবর্তন তখন সবাই চাচ্ছিলেন, কেউ কেউ পরিবর্তনটা বংগবন্ধুর মাধ্যমেই চাচ্ছিলেন, কেউ কেউ হতাশ হয়ে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে চাচ্ছিলেন। কিন্তু পরিবর্তন এত নির্মম হবে তা মনে হয় ফারুক-ডালিম ছাড়া আর কেউ ভাবেননি।

    আরেকটু ডিটেইল বলবেন প্লিজ।

    [ জবাব দিন ]

    সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)
        জানুয়ারি ২৯, ২০১০ at ৯:৩৪ অপরাহ্ন |

    খুনি ফারুক-রশিদ চক্রের সঙ্গে যোগাযোগটা বেশ জোরালোই ছিল জিয়ার। ১৯৭৫ সালে ফারুক, রশিদরা একাধিকবার জিয়ার বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী তার বই “এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য”তে এসব সাক্ষাতের দিন-তারিখও উল্লেখ করেছেন। পরে ফারুক এন্থনি ম্যাসকারেনহাসের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাদের পূর্ব যোগাযোগের বিষয়টি জোর দিয়েই বলেন।

    আবার তাহেরের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল জিয়ার। যে কারণে তাহের বন্দি দশা থেকে মুক্ত করে জিয়ার হাতেই ক্ষমতা তুলে দেন। কিন্তু তাহেরের দেখানো পথে হাটেননি জিয়া।

    অর্থাৎ মুজিব-বিরোধী একাধিক চক্রান্তকারী দলের সঙ্গে জিয়ার ঘণিষ্টতা ছিল। জিয়ার সমর্থন ছাড়া ১৫ আগস্ট ও ৭ নভেম্বরের অভ্যূত্থান ঘটেনি। জিয়ার উচ্চাভিলাষ হয়তো হতাশা থেকে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তিনি মুজিব-বিরোধী যে কোনো সুযোগকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন।

    আর সেনাবাহিনীতে তখন মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও অনেকগুলো উপদল সক্রিয় ছিল। মুক্তিযোদ্ধা, পাকিস্তান ফেরত বিভক্তি তো ছিলই। আর চক্রান্তকারী উপদলগুলোও যেহেতু জিয়ার হতাশা ও ক্ষোভের কথা জানতো তাই তারা জিয়াকে সব বিষয়ে অবহিত রাখতো। জিয়াও অধিকাংশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তিনি সৎ হলে তো বঙ্গবন্ধুকে এইসব চক্রান্ত সম্পর্কে জানাতেন। তুমি বলতে পারো, সেক্ষেত্রে জিয়া বিপদেও পরতে পারতেন। ‘মিসআন্ডারস্টুড’ হতে পারতেন। অস্বীকার করি না। কিন্তু বাস্তবতা হলো জিয়া সুযোগ নিয়েছিলেন।

    যে যুক্তি তুমি খালেদ মোশাররফ সম্পর্কে দিলে সেটা কি জিয়ার বেলায়ও সত্য নয়? ১৫ আগস্টের সময় ও পরে কিছুদিন সফিউল্লাহ সেনাপ্রধান ছিলেন। তারপর তাকে সরিয়ে দিয়ে জিয়া ওইপদ নেন। সেনাপ্রধান হয়েও জিয়া খুনিচক্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।

    বরং ‘৭৫ এর পর তার শাসনামলে খুনিচক্র পূনর্বাসিত হয়েছে। ৩ নভেম্বর অভ্যূত্থানের পর খালেদ মোশাররফের জন্য সেনাপ্রধান হতে চাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল কি? অভ্যূত্থান তার নেতৃত্বে হয়েছে। সেটা ধরে রাখতে তিনি অন্য কাউকে সেনাপ্রধান করবেন? আর সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিয়ে খালেদ প্রথমেই মোশতাককে সরান। ৬ নভেম্বর বিচারপতি আবু সাদাত সায়েমকে রাষ্ট্রপতি করেন। খুনিচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে এদের দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু ইতিহাসে দেখা যায়, খালেদ ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রকারী কোনো চক্রের সঙ্গে ছিলেন না। বরং খুনিচক্রের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাদের শায়েস্তা করার জন্য তৎপর ছিলেন। অভ্যূত্থান করেও খালেদ দ্বিধান্বিত ছিলেন। তিনি বেতারে ভাষণ দেননি। নিজের ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার কোনো চেষ্টা করেননি। যে কারণে ৭ নভেম্বর সহজেই সম্পন্ন হয়।

    [ জবাব দিন ]

    ফয়েজ (৮৭-৯৩)
        জানুয়ারি ৩০, ২০১০ at ৭:০৪ পূর্বাহ্ন |

    শেষের প্যারায় খালেদ মোশাররফ সম্পর্কে যেটুকু বললেন তা জানা ছিল না। আপনাকে ধন্যবাদ। খালেদ মোশাররফ কে নিয়ে একটা পোস্ট দেবার কথা ছিল আপনার, এই সুযোগে তা মনে করিয়ে দিলাম।

    ১৫ই আগস্ট আর ৭ ই নভেম্বর এর সবচেয়ে বড় বেনিফিসারি জিয়া, একথা সত্য। কিন্তু এত গুলো ঘটনা তিনি প্ল্যান করে ঘটিয়েছেন তা মেনে নিতে কস্ট হয়। তিনি বাধা দিতে পারতেন, তিনি বাধা দিলে হয়ত ইতিহাস অন্য রকম হত, এত রক্তপাত হত না, প্রশ্ন জাগে, তিনি বাধা দিলেন না কেন? তিনিও পরিবর্তন চাচ্ছিলেন, বুঝতে পারি, কিন্তু কি ধরনের পরিবর্তন?

    আফটার অল, তিনি কাপুরুষ ছিলেন এটা মনে হয় কেউ বলবেন না।

    [ জবাব দিন ]

    ফয়েজ (৮৭-৯৩)
        জানুয়ারি ৩০, ২০১০ at ৭:০৬ পূর্বাহ্ন |

    খালেদ মোশাররফ অভ্যুত্থান করেও যদি বিভ্রান্তিতে ভুগেন, তাহলে তিনি নিশ্চয় এখানে একটা বড় বোকামি করে ফেলেছেন।

    [ জবাব দিন ]

    কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)
        জানুয়ারি ৩০, ২০১০ at ৮:৩১ পূর্বাহ্ন |

    কিন্তু এত গুলো ঘটনা তিনি প্ল্যান করে ঘটিয়েছেন তা মেনে নিতে কস্ট হয়।
    আফটার অল, তিনি কাপুরুষ ছিলেন এটা মনে হয় কেউ বলবেন না।

    ফয়েজ ভাই, যিনি পরিবর্তন নিজেই চাচ্ছিলেন, আর্মির মত একটা ডিসিপ্লিন্ড রেজিমেন্টাল ফোর্সের টপ তিন চার জন অফিসারের একজন হওয়ার পরও কিছু জুনিয়র অফিসার মেজর এবং ক্যাপ্টেনদের এ রকম ষড়যন্ত্র জেনে তারপর গো এহ্যাড টাইপ সিগ্ন্যাল যিনি দিয়ে গেলেন, তাহেরের ঘাড়ে পা রেখে সবার নয়নের মণি হয়ে সেই তাহেরকেই যিনি প্রথম সুযোগে ঝুলিয়ে দিলেন, তাকে বীরপুরুষ অন্ততঃ আমি বলতে পারছিনা বস্‌ ।

    [ জবাব দিন ]

    ফয়েজ (৮৭-৯৩)
        জানুয়ারি ৩০, ২০১০ at ১২:৩১ অপরাহ্ন |

    ভালো পয়েন্ট বলেছো।

    কিন্তু তুমি নিশ্চয় বুঝতে পেরেছো, আমি তাকে সেই অর্থে কাপুরুষ বলিনি, আমি মহামান্য আদালতের কথার আদলে বলতে চেয়েছি।

    [ জবাব দিন ]

    কামরুল হাসান (৯৪-০০)
        জানুয়ারি ৩০, ২০১০ at ১২:৫৮ অপরাহ্ন |

    জিয়াউর রহমান তো বীর পুরুষই ছিলেন।
    কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে বিনা বিচারে ফাঁসিতে ঝোলাতে সাহস লাগে না বলছেন?

    [ জবাব দিন ]

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        জানুয়ারি ৩০, ২০১০ at ২:৫৭ অপরাহ্ন |

    সংখ্যাটা কি আসলেই হাজার হবে??!! :-o :-o

    [ জবাব দিন ]

    কামরুল হাসান (৯৪-০০)
        জানুয়ারি ৩১, ২০১০ at ১২:২৩ পূর্বাহ্ন |

    আমি তোর প্রশ্নে অবাক হচ্ছি না, কিন্তু লজ্জা লাগছে।
    ক’দিন পরে হয়তো কেউ জিজ্ঞেস করবে জিয়াউর রহমান আবার কবে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করলো?
    এই যে আজকে তুই ‘হাজার’ শুনে অবাক হলি, কদিন পরে হয়তো অনেকে জিয়াউর রহমান কাউকে হত্যা করেছে শুনলেও এমন অবাক হবে।
    কিন্তু তারপরেও এটা সত্যি।

    Anthony Mascarenhas এর Bangladesh: A Legacy of Blood এ উল্লেখ আছে। বিশ্বাস না হলে পড়ে দেখতে পারিস।
    একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর- কর্নেল শাফায়ত জামিল।প্রকাশক- সাতিহ্য প্রকাশ , ২০০০। এটাতেও পেয়েছি আমি।

    আরো সন্দেহ থাকলে এখানে লাবলু ভাইকে জিজ্ঞেস করতে পারিস।
    তারপরেও সন্দেহ না মিটলে নিজে এই বিষয়ক কিছু বই ঘাটাঘাটি কর।

    [ জবাব দিন ]

  2. মান্নান (১৯৯৩-১৯৯৯)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৮:২১ পূর্বাহ্ন |

    আমরা একটা অকৃতজ্ঞ জাতি। যতই মুখে বলি ৩৫ বছর পরে হলেও জাতির জনকের বিচার করেছি। এখনও জেল হত্যার বিচার হয়নি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়নি। এই ধারাবাহিকতায় বিডিআর হত্যার বিচার হতে হয়ত আরো পঞ্চাশ বছর কেটে যাবে। পঞ্চাশ বছর পর আমরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলবো যে বিচার করেছি। আসলে আমাদের মাথায় অকৃতজ্ঞতার বোঝা এ্রত ভারী হয়েছে যে একটা দুইটা বিচার যেন বোঝা থেকে শাঁকের আটির হালকা হওয়া। জাতিরজনক সপরিবারে নির্মুল হয়ে যায় আর আমরা মেরুদন্ডহীন গন্ডার জনগন ৩৫ বছর পর টের পাই। জাতি হিসাবে নষ্ট নেতৃত্ব আমরা ডিজার্ভ করি।

    [ জবাব দিন ]

  3. জিহাদ (৯৯-০৫)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ২:০৭ অপরাহ্ন |

    লেখাটা খুব ভালো লাগলো। লেখার ভেতরের লেখাগুলোও।

    [ জবাব দিন ]

    সাইফুদ্দাহার শহীদ (১৯৬১-১৯৬৫)
        জানুয়ারি ২৯, ২০১০ at ৬:২৬ পূর্বাহ্ন |

    ধন্যবাদ তোমাকে। এটা মূলত আমার ঈংরেজী লেখার বাংলা রূপান্তর। ঢাকার বন্ধুর ফোন পেয়েই অনুবাদটি করে ফেললাম। একবার ব্যাক্তিগত দুঃখের অংশটা বাদ দিতে চেয়েছিলাম – পরে দেখলাম সব দুঃখগুলো একসাথে মিশে আছে আমার অনুভুতিতে।

    [ জবাব দিন ]

  4. আছিব (২০০০-২০০৬)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ২:৪০ অপরাহ্ন |

    :boss: ভাই,আপনারা সবাই অনেক সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন।এভাবে যদি আমরা সবাই চিন্তা করতে পারতাম,তাহলে হয়ত ইতিহাস অন্যরকম হত।
    কিন্তু আফসোস,স্বার্থই এখানে মূল নিয়ামক,আমরা নিজেদের স্বার্থকেই বেশি প্রাধান্য দেই।যতদিন হাসিনা-খালেদার স্বার্থ জড়িত থাকবে,ততদিন এসব স্পর্শকাতর মামলার কোন সুরাহা হবে না।আর আমরা জেগে উঠব তখনই যখন আমাদের অস্তিত্বে আঘাত আসবে।
    জাতিস্বত্তা,দেশপ্রেম,স্বার্বভৌমত্ব এসব জটিল জটিল শব্দের মর্মার্থ কয়জন বাঙ্গালী বুঝে????

    [ জবাব দিন ]

  5. রশিদ (৯৪-০০)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৩:৫৬ অপরাহ্ন |

    ভাইয়া আবারো কষ্টটা অনুভব করছি বুকে……

    জানিনা সেদিন কেউ কেঁদেছিল কিনা, কিন্তু আজকে অনেকেই কেঁদেছি…….আমি সত্যিই কেঁদেছি…….একটা কবিতা লিখে ফেলেছি একটানে……পোষ্ট করে দিলাম

    [ জবাব দিন ]

    সাইফুদ্দাহার শহীদ (১৯৬১-১৯৬৫)
        জানুয়ারি ২৯, ২০১০ at ৬:১১ পূর্বাহ্ন |

    রশিদ,
    তোমার কবিতাটা পড়লাম। খুব ভালো লাগলো।
    এক জনকে শুনেছিলাম মুজিব হত্যার খবরে কাঁদতে – ব্যারিষ্টার রফিকুল হক (এরশাদের আমলে এটনীর জেনারেল)। অথচ মুজিব বেঁচে থাকতে তার কাজের সমালচনাও হকের মুখে শুনেছি।

    [ জবাব দিন ]

    রশিদ (৯৪-০০)
        জানুয়ারি ৩০, ২০১০ at ৫:২৯ অপরাহ্ন |

    ধন্যবাদ ভাইয়া

    [ জবাব দিন ]

  6. আব্দুল্লাহ (৯৩-৯৯)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৫:৫৯ অপরাহ্ন |

    দোষী কি শুধু যাদের ফাঁসি হলো তারাই ছিলো??

    :dreamy:

    [ জবাব দিন ]

  7. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৮:৪৭ অপরাহ্ন |

    সেই প্রশ্ন আমার মনে এলো – কিন্তু দেশে এক জনও কি এমন কেউ ছিলো না, যে সর্ব সম্মুখে দাঁড়িয়ে জাতির জনকের সমগ্র পরিবারের এমন নৃশংস হত্যাকান্ডে কিছু চোখের জল ঝরাতো?

    [ জবাব দিন ]

  8. রাশেদ (৯৯-০৫)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ৮:৫৮ অপরাহ্ন |

    আমার কাছেও এই ব্যাপারটা দারুণ অদ্ভূত লাগে, যে মানুষটার কথায় সারাদেশের মানুষ চার বছর আগে জীবন দিল তার এই রকম নৃশংস মৃত্যতে কেউ কোন কথা বলল না? এত বড় একটা সংগঠনের নেতা (আওয়ামে লীগ) ছিলেন। এই সংগঠনের কয়জন লোক প্রতিবাদ করেছিলেন? এর কারণটা কখনোই আমার মাথায় ঢুকে না।

    [ জবাব দিন ]

  9. আশহাব  (২০০২-০৮)
       জানুয়ারি ২৮, ২০১০ at ১১:১৬ অপরাহ্ন |

    দোষী কি শুধু যাদের ফাঁসি হলো তারাই ছিলো??

    :-?
    :boss: :boss: :boss:

    [ জবাব দিন ]

  10. হাদী (১৯৯৮-২০০৪)
       জানুয়ারি ২৯, ২০১০ at ১২:১৪ পূর্বাহ্ন |

    সব ই সময়ের কান্ড।

    [ জবাব দিন ]

  11. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)
       জানুয়ারি ২৯, ২০১০ at ১২:২২ পূর্বাহ্ন |

    মর্মস্পর্শী লেখা।

    [ জবাব দিন ]

    সাইফুদ্দাহার শহীদ (১৯৬১-১৯৬৫)
        জানুয়ারি ২৯, ২০১০ at ৬:২৯ পূর্বাহ্ন |

    শান্তা,
    ধন্যবাদ তোমাকে এবং তোমার চিঠির জন্যে।

    [ জবাব দিন ]

  12. মরতুজা (৯১-৯৭)
       জানুয়ারি ২৯, ২০১০ at ১:৩১ পূর্বাহ্ন |

    ৭৫ এ যেমন কারও না কান্নাটা (আমার বাপের কাছেও শুনি সবসময় এ কথা) যেমন আমাকে অবাক করে ঠিক তেমনই আজকে অতি কান্না আমাকে আরো হতাশ করে। কিন্তু অবাক হই না।

    এখন তো মুজিবের নাম নেয়ার আগে বঙ্গবন্ধু না বললে যেন নবীর নামের পরে দরুদ না পরলে গুনাহ করার পাপ হয়ে যায়। নেতারা বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু , জননেত্রী জননেত্রী করতে করতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। বাংগালীও কলঙ্ক উদ্ধার করে যেন আইন ও বিচারের মা বাপ দেখে ফেলল। ওদিকে সাহারা বেগম দিনে রাতে ক্রস ফায়ারে মানুষ মেরে বেড়াচ্ছে সেখানে যেন জীবনের দাম নেই।

    আমি অপেক্ষায় আছি কেমন করে এইই বাংগালী আবার ৪ বছর পর জামাত বিএনপি কে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে।

    আমি তো এর কোন সমাধান দেখি না। একমাত্র সমাধান দেখি গডফাদারের ডন ভিটো কর্লিয়নির মত এক রাতে সব রাজনীতিবিদ আর ঘুষখোর দুর্নীতিবাজদের গুলি করে মেরে ফেলা। এমন বিপ্লব দেশে এলে সবার আগে বন্দুক হাতে মাঠে নামতাম।

    [ জবাব দিন ]

    মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)
        জানুয়ারি ২৯, ২০১০ at ২:১৬ পূর্বাহ্ন |

    ভাই কতগুলাকে মারবেন?ওইরকম করলে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।এর শর্টকাট কোন সমাধান আছে বলে মনে হয়না।সমাজে ভালো মানুষের সংখ্যা বাড়ানো এবং তাদেরকে পলিসি মেকিং সিস্টেমে সংখ্যাগুরু করে ফেলা ছাড়া আর ত উপায় দেখিনা।সবচেয়ে ভালো হয় রাজনিতিতে ভালো মানুষেরা ঢুকলে কিন্তু সেই পথটা এত গন্ধযুক্ত এবং বিপজ্জনক যে কেউ যদি না আসতে চায় তাকে খুব বেশি দোষ দেয়া যায়না।দ্বিতীয় পথ হচ্ছে পলিসিমেকার হবার লক্ষ্যে সরকারী চাকরিগুলাতে যোগ দেয়া এবং দুর্নীতিবাজ না হওয়া-সেইটাও কোন কার্যকরী সমাধান না কারণ মাথা অর্থাৎ রাজনীতিবিদেরা ঠিক না থাকলে কোন সৎ মানুষের আমলা হিসেবে প্রভাব রাখা খুবই দুষ্কর।তৃতীয় হচ্ছে জেনারেল লি কোয়ান ইউ বা মাহাথির মাহমুদের মত দেশপ্রেমিক একনায়কের(সামরিক বা বেসামরিক) উত্থান।কিন্তু সেক্ষেত্রে-”power corrupts,and absolute power corrups absolutely আপ্তবাক্যটা সত্যি হয়ে যাবার সম্ভাবনা ৯৯ পারসেন্ট।

    প্রথম আর তৃতীয়তার কথা জানিনা,দ্বিতীয়টার কথা বলি।ধরা যাক পর পর কয়েক ব্যাচের অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা একেবারে ঢোকার সময় থেকেই ঘুষ খাবেনা বলে ঠিক করল এবং সেটা বজায় রাখল।এভাবে সৎ,নিবেদিতপ্রাণ মানুষজন পুলিশে ঢুকতেই থাকল টানা ৪-৫-১০ বছর।এরা যখন সিনিয়র হবে-দুর্নীতি কিছুটা হলেও কমবে বলে কি মনে হয়না?

    অবশ্য দেশের এখন যা অবস্থা তাতে আমার এই কমেন্ট নিরাপদেই পাগলের প্রলাপ বলে উড়িয়ে দেয়া যায়। :)

    [ জবাব দিন ]

  13. সাইফুদ্দাহার শহীদ (১৯৬১-১৯৬৫)
       জানুয়ারি ২৯, ২০১০ at ৫:৫৫ পূর্বাহ্ন |

    লাভলু / মরতুজা,
    মেজর ডালিমের বাংলাদেশের ইতিহাসের না বলা সত্যকে জানুন” নামক একটি সাইট খুজে পেলাম -
    http://www.majordalimbangla.net

    [ জবাব দিন ]

  14. আতিক (৯৩-৯৯)
       জানুয়ারি ৩০, ২০১০ at ৮:০৭ অপরাহ্ন |

    লেখাটা মর্মস্পর্শী … লেখাটা আমি facebook এ share করলাম ভাইয়া।

    [ জবাব দিন ]

মন্তব্য করুন :

আপনার ই-মেইল ঠিকানা কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা শেয়ার করা হবেনা। দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা। আবশ্যিক তথ্যগুলো * চিহ্নিত করা আছে।

*
*
:) :( :P :D :)) :(( =)) :clap: ;) B-) :-? :grr: :boss: :shy: x-( more »


অভ্র প্রভাত ফোনেটিক ইউনিজয় ইংরেজী
(বাংলায় টাইপ করতে ctrl+g চাপুন। একটি শব্দ লেখা শেষে স্পেস বার চাপুন। তাহলেই ইংরেজী থেকে শব্দটি বাংলায় রুপান্তরিত হবে।একই শব্দের একাধিক বানান অপশন দেখতে শব্দটির উপরে মাউস রেখে ক্লিক করুন)
Ekushey Inline virtual Bangla keyboard