*বনি তখন জুনিয়র প্রিফেক্ট। ওর পার্টনার হসপিটালে এডমিট, বেচারাকে একাই সব দিক সামলাইতে হচ্ছিল। সামনে গার্ডেনিং কম্পিটিশন। দুপুর বেলা ঘুম বাদ দিয়ে খাঁ খাঁ রোদের মধ্যে কাজ করার জন্য জুনিয়রদের সাথে বেচারাকে একাই নামতে হত। ডেকে গলা ফাটায় ফেললেও অন্য কোন ক্লাসমেট নামে না, ঘুমের নামে মটকা মেরে পরে থাকে।
এর মধ্যে একদিন এক বেডে গ্ল্যাডিওলাসের চারা লাগানোর কথা, কিন্তু চারা থেকে ফুল হতে হতে তো গার্ডেনিং কম্পিটিশনই শেষ হয়ে যাবে। আমি আর জামি এজন্য ঠিক করলাম কলেজের গার্ডেনে যেই গ্ল্যাডিওলাস গুলা আছে, ওগুলা কয়েকটা চুরি করে এনে লাগায় দিব। গেমস টাইমে সবার চোখ এড়ায়ে চুরি করতে যেয়ে দেখি কোন হাউস যেন আগেই এই কাজ সেরে রেখেছে।
বাধ্য হয়ে গ্ল্যাডিওলাসের মূল (পেঁয়াজের মত) চুরি করে এনে লাগায় দিলাম। এর কয়েকদিন পর জুনিয়রগুলাকে কামলা লাগানো হইসে আগাছা পরিষ্কার করার জন্য। হঠাৎ শুনি সেলিমা ম্যাডাম চিৎকার করছেন, একি করস!!
গিয়ে দেখি, কে জানি আগাছা পরিষ্কারের নামে পেয়াজ শুদ্ধা উপড়ায় ফেলে দিসে। পরে অবশ্য আমরা ফুল শুদ্ধা গাছ কিনে লাগাইসিলাম।
*অনেকগুলা প্ল্যাকার্ড বানানো হইসে, লাস্ট মোমেন্টে দেখা গেলো প্যানসি লেখা প্ল্যাকার্ড দুইটা হয়ে গেছে। আবার একটা ছোটখাট ঝোপের মত গাছে কোন প্ল্যাকার্ড নাই। গাছটা যে কি, তাও জানিনা। প্যানসি লেখা প্ল্যাকার্ডটা গাছটার সামনে বসায় দেয়া হল।
প্রিন্সিপাল রাউন্ডে এসে গাছটার সামনে খাণিক্ষন দাঁড়ায় দাঁড়ায় দেখলেন, তারপর হাউস প্রিফেক্টকে জিজ্ঞেস করলেন নাসরীন, এইটা কি গাছ? দেখে তো মনে হয় তুলসী গাছ।
নাসরীন আপাঃ না স্যার, পানসি স্যার।
-নাসরীন পাতাটা শুঁকে দেখ তো।
-জ্বী স্যার, মানে তুলসীর ইংরেজী নাম প্যানসি, স্যার।
*সত্য হাউসের গার্ডেনে এডজুটেন্ট নাবিলাকে কয়েকটা গাছের নাম জিজ্ঞেস করসে, সে আন্দাগুন্দা বানায় বলসেঃ চাইনীজ হেজ, চাইনীজ জবা…ইত্যাদি ইত্যাদি। শান্তি হাউসের গার্ডেনে এসে জেপিকে একটা গাছের নাম জিজ্ঞাস করলে ও বলসে চাইনীজ গ্রাস (উল্লেখ্য, সেটা সত্যি ছিল)। স্যার তখন মুচকি হেসে বললেনঃ গাছের নাম না জানলেই আগে চাইনীজ বসিয়ে দিতে হয়, তাই না সাবিনা?
*সত্য হাউস গার্ডেনের চারপাশে লেটুস লাগিয়েছিল হেজ হিসেবে। কম্পিটিশন শেষ হয়ে যাওয়ার পর ময়মনসিংহের বিখ্যাত ফাস্ট ফুড শপ বেস্ট বাইট এসে ওদের লেটুস কিনে নিয়ে গেছিল।
*গার্ডেনিং কম্পিটিশনের দিন দেখি সত্য হাউস মাঝারি সাইজের একটা গর্ত করে তার মাঝে একটা ড্রাম পুঁতসে, তার মাঝে পানি ঢেলে শাপলা ফুল লাগাইসে। কম্পিটিশনের সময় এডজুটেন্ট নাবিলা কে জিজ্ঞেস করল, বল, শাপলা ফুলের জন্মপ্রক্রিয়া কি?
সে উত্তর দিল, শাপলা আসলে মাটিতেই জন্মায়, থাকে পানির উপরে…


(৫ভোট, ৪.০০/ ৫)
৪০ টি মন্তব্য
মজাক পাইলুম
[ জবাব দিন ]
যুগে যুগে এইরকম গ্যাটিস সবখানেই হইছে, হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে
।
।
।
কুমিল্লায় একবার কমলালেবু গাছে সুপার গ্লু দিয়ে কমলা লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল
ক’দিন আগে আমাদের এখানে মাচাসহ আস্ত লাউগাছ তুলে এনে লাগানো হইছে
[ জবাব দিন ]
ভবিষ্যতে হবে কিনা জানি না, কারন ঝকক তে এই গার্ডেন প্রতিযোগিতা এখন বন্ধ হয়ে গেসে।
@ সুষমা আপু, লেখাটা জতিল হইসে, গার্ডেনিং এর অনেক স্মৃতি মনে করায়া দিসেন।
[ জবাব দিন ]
বন্ধ হয়ে গেসে??
বন্ধ হয়ে গেসে ক্যান?
[ জবাব দিন ]
লেখা সেইরকম হইসে
[ জবাব দিন ]
নার্সারীতে গার্ডেনিং কম্পিটিশান ??

গাছের যত্নে গাছ …
[ জবাব দিন ]
কেন প্রিবলেম কি???

মাইনষের যত্ন কি গরিলারা কইরা যায় নাকি??? মানুষই তো করে…
অবশ্য টারজান হইলে আলাদা কথা…
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
জুনায়েদ ভাই, আপনি এত বস ক্যান?
[ জবাব দিন ]
আমি টার্জান্দেকপো…
মাস্রুব্বাই…..
[ জবাব দিন ]
Off Topic-Tarzan X is one of my favorite movies….
[ জবাব দিন ]
দোয়া করি বাপ মানুষ হ। :wink: :wink: :wink:
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
সিসিবির সাম্প্রতিক ব্লগীয় ধারা বজায় রেখে সুষমা কে
[ জবাব দিন ]
জটিল জটিল
[ জবাব দিন ]
বাগান নিয়ে লিখে কাউকে নষ্টালজিক (রেস্ট অফ দ্যা কলেজেস্), কাউকে হোমসিক (জেসিসি অনলি!) করার জন্য সুষমা কে বিশুদ্ধ অক্সিজেন সমৃদ্ধ সবুজ
[ জবাব দিন ]
আহ মামা বাগান শুনলেই হোমসিক হয়া যাই-এক্কেরে মুনের কথাডা কইলেন-আহারে আমাগো গাছেগো জুন্যে কি সোন্দর ছিল এই পোরতিযুগিতাডা…শুধু গাছগো লাইজ্ঞা একটা আলাদা কম্পিটিশন-কত যত্ন নিতো আমাদের…আহাহাহাহা…এই জুন্যেই তো আমি ক্যাডেট কলেজরে এতো ভালা পাই
[ জবাব দিন ]
মাসরুফ ভাই, আপনেও এত বস ক্যান???
[ জবাব দিন ]
সিসিবির সাম্প্রতিক ব্লগীয় ধারা বজায় রেখে সুষমা কে
[ জবাব দিন ]
আমারো অনেক কথা মনে পড়ে গেল। সুষমাকে ধন্যবাদ।
[ জবাব দিন ]
ভালই।।
চলবে…দৌড়াবে।
[ জবাব দিন ]
সুষমা খুব মজা পেয়েছি। আজকের ঘটনার সঙ্গে ৩০ বছর আগের তেমন পার্থক্য থাকে না। ক্যাডেট কলেজে সময়টা আসলে আটকে থাকে।
গার্ডেনিং কম্পিটিশন থাক, অন্যপ্রসঙ্গ বলি। ফৌজদারহাটে রবীন্দ্র হাউসের বাগানে একটা ‘কাঠালচাঁপা’ গাছ ছিল। আমরা গেমসের পর এসে ওখানে ফুল খুঁজতাম। অসাধারণ সৌরভ ওই ফুলটার। আমাদের সময়ই ওটা বেশ বুড়িয়ে গিয়েছিল। সর্বশেষ রিইউনিয়নে গিয়ে দেখি গাছটা আর নেই।
[ জবাব দিন ]
ও আচ্চা, বুজতার্ছি, গাছটা মনে হয় জেসিসি তে চান্স পাইছিল ,, তাই না?
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
কেলাস এইটে কিন্তু আমার আব্বার পোস্টিং চিটাগাং ছিল।ক্যাডেট লাইফের অরধেকের বেশি চিটাগাং এ কাটাইছি ছুটিতে।কাহিনীটা কেমুন জানি পরিচিত পরিচিত লাগতাছে।আমার পূর্ব্জন্মের কাহিনী না তো?
[ জবাব দিন ]
আমাদের ব্যাচের একজন গার্ডেনিং প্রতিযোগিতার সময় প্রচুর শ্রম প্রদানের ফলশ্রুতিতে জেপি হয়েছিল।
সিনিয়র এক ভাইয়ের ঘটনা অবশ্য বেশ মর্মান্তিক ছিল। তিনি জেপি হবার আশায় গার্ডেনিং প্রতিযোগিতার সময় হাউসের উপকার হেতু ৩৫০০ টাকা ব্যয় করেছিলেন কিন্তু ফলশ্রুতিতে কোন প্রিফেক্টশিপই পাননি, তদুপরি তার নাম হয়ে গিয়েছিল জিপি(গার্ডেন প্রিফেক্ট)।
বোঝাই যাচ্ছে জুনায়েদ ভাই আর মাসফু ভাইয়ের উক্ত কাহিনি জানার পর আনন্দাশ্রুপাত হচ্ছে।
[ জবাব দিন ]
রাজশাহী তে তো তারিক হাউস ছাড়া অন্য কোন হাউস গার্ডেনিংএ প্রথম হতে পারত না। অন্য হাউসরা তাই বলতো তারিক হাউস যেহেতু পিছনে অন্য দুই হাউসের সব সুয়ারেজ তারিক হাউসের গার্ডেনএ এসে জমে মাটি উব্র করে দেয়। আমাদের সময়ে বায়োলজী বই থেকে ইচ্ছা মতো ল্যাটিন নাম দেওয়া হয়েছিল গাছদের কয়েকটা নাম ধরাও খাইছিল তারপরও প্রথম হওয়া থামে নাই। হাউসের সামনে একটা হাসনাহেনার গাছ ছিল, যখন ওই গাছে ফুল ফুটত সারা হাউসে রাতের বেলায় তার সুবাস পাওয়া যেতো।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
ভাই ঠিকই বলছেন। আমরা কলেগে থাকতে ১বার খালিদ ও ১বার কাসিম হাউস ১ম হয়েছিল,এছারা প্রতিবার তারিক হাউসই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
[ জবাব দিন ]
আবার ভুল করলাম,*কলেজ
[ জবাব দিন ]
আহা, কত কিছু যে চুরি করছি গার্ডেনিং এর আগের রাতে।
[ জবাব দিন ]
সুষমার কাছে নেট নাই, সে সবাইকে থেঙ্কু জানাইসে সবার সুন্দর সুন্দর কমেন্টের জন্য।
[ জবাব দিন ]
জট্টিল লেখা হইছে ….

আল্লাহ এই টার্মে গিয়াইতো গাডের্নিং …. so ভাইয়া and আপুরা দোয়া করবেন….. ইনশাল্লাহ্ আপনাদের জানাবো এর কাহিনী গুলো…..
[ জবাব দিন ]
Kotttodin por ajke blog e ashlam…eshe dekhi etto ettto lekha!!! Sorry I don’t have the Bangla software with me here. Sushom, I just wanted 2 say, tui amar JP partner hoyate ami j koto fakibaji korte parsi…
Ur blog has reminded me of those days again…I miss u all a lot! USA er manush jon etto self-centered & cold j I’ve realized that there couldn’t be anything like cadet friends!
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
সুষমা তুই তো মান সমমান ডুবায় দিলি
[ জবাব দিন ]
সুষমা আপু, আজকে কি মনে হল আপনার ব্লগ স্টোর রুমে ঢুকলাম, প্রথম লেখাটা এত মজার কি বলব?
আমরা কম্পিটিশনের আগে ফুলের টব কিনে বাগানে টব সহ পুতে দিতে দেখেছি বড় ভাইদের। আর আমাদের একজন বাগান নিয়ে এতই লাফালাফি করত যে বেচারারা নতুন টিজ নেম হয়, “মালি”।
[ জবাব দিন ]
এইটা ফার্স্ট ব্লগ না, আরো তিনটা লিখেছিলাম,কিন্তু ওই তিনটা আগের আইডি তে, পাসওয়ার্ড ভুলে গিয়ে নতুন আইডি খুলসি এইটা , তোকে লিঙ্ক দিচ্ছি বাকি তিনটার
http://www.cadetcollegeblog.com/sushama/1265
http://www.cadetcollegeblog.com/sushama/1268#comment-193309
http://www.cadetcollegeblog.com/sushama/1247#comment-68120
[ জবাব দিন ]