ডায়লগ মেলোডি ১.১ (মির্জাপুরিয়ান ভার্সন)

once upon a time অর্থাৎ একদা এক সময় আমরা যখন বাংলা মিডিয়ামে পড়তাম তখন দৌর্দন্ড প্রতাপশালী শিক্ষকদের বাক্যের কারুকার্য দেখাতে তেমন একটা কষ্ট পেতে হতোনা।মাতৃভাষায় মনের মাধুরী মিশিয়ে ভাষার নানা কারুকার্য তারা আমাদের অর্থাৎ ক্যাডেটদের মাঝে উপস্থাপন করতেন। শিক্ষকদের সেই সোনালী সময় থেকেই শুরু করি।

# নাম্বারঃ১

আমাদের এই শিক্ষকটি ব্যাপক ভাবে টাঙ্গাইল বিদ্বেষী মানুষ ছিলেন(এখন আছেন কীনা জানিনা।)জুনিয়র থাকাকালীন সময় থেকেই আমরা টাঙ্গাইলের যারা ছিলাম তারা নানান ভাবে শুধু টাঙ্গাইলে বাস করার অপরাধে(?) কোন কারণ ছাড়াই নানা সময়ে অপদস্থ হয়েছি। আর ফল্ট সহ তার কাছে ধরা খাইলে তো কথাই নাই।পরে তার এই টাঙ্গাইল প্রীতির কারণ হিসেবে যা উদ্ঘাটিত হল তার সারমর্ম হচ্ছে- এম সি সি তে তিনি যখন জুনিয়র টীচার হিসেবে জয়েন করেছিলেন তখন টাঙ্গাইলের কতিপর সোনার সিনিয়র দ্বারা ক্লাস সেভেন এর সমতূল্য সমাদর এর স্বীকার হয়েছিলেন।(সেই সমাদর এর কথা নাই বলি) । তখন থেকেই তার এই ক্ষোভের শুরু।আর চিপায় পড়ে আমাদের পূর্বসূরির প্রায়শ্চিত্ত করতাম আমরা,মানে টাঙ্গাইলের গুলা।তার সামনে কেউ কোন ফল্ট করলেই প্রথম প্রশ্ন- “বাড়ি কুথ্‌থায়?? টাঙ্গাইল??”এর উত্তর যদি “হ্যা” হয় তাইলে তো কথাই নাই।এমন ভাবে মাথা নাড়তেন যে এমনটিই তো হবার কথা ছিল।

আর মাঝে মাঝে উত্তর “না” হলেও কেউ কেউ পার পেতোনা।এই যেমন আমার ক্লাসমেটকে স্যার কি ফল্ট এর জন্য জানি ধরেছে। তো প্রথমেই সেই চিরন্তন প্রশ্ন। উত্তর এলো- “জ্বীনা স্যার।”
তারপর জিজ্ঞেস করলেন
– “তাহলে বাড়ি কুথ্‌থায়?? ”
-“স্যার,ময়মনসিংহ।”
এইবার আর পায় কে? স্যারের মুখে যুদ্ধজয়ের হাসি।এরপর তার সেই মহান গবেষণালব্ধ ফল প্রকাশ করলেন-
“ওই তো একই কথা হল। ময়মনসিংহ তো টাঙ্গাইলের উপর দিয়েই যেতে হয়!!?##৳%@!!”

# নাম্বারঃ ২

এই স্যারটা বাংলা পড়াতেন আমাদের। সিনিয়র ক্যাডেট কলেজ থেকে মাত্র আমাদের কলেজে টেক অফ করেছেন।প্রথম কয়েকদিনেই পোলাপান বুঝে গেল এই স্যার কিছু কিছু দিক দিয়ে আমাদের চেয়েও পুংটা টাইপের!!সে ক্লাসে আসলে দেখা যেত ক্লাস বহির্ভূত নানা বিষয় নিয়েই বেশি আলাপ হত।এমন কোন বিষয় ছিলনা যেটা নিয়ে আলাপ হতোনা তা সে ভালই হোক আর আপাতদৃষ্টিতে মন্দই হোক(চাম হাসি)।তো এরকমই একটা ক্লাসের কথা।কথায় কথায় আমার এক ক্লাসমেট হঠাৎ কি মনে করে জানি স্যারকে বলেছে যে-
-স্যার,আপনাকে ফ্রেঞ্চ কাট রাখলে দারুন মানাবে।
স্যারের জবাবটা ছিল এরকম…
“কোন জায়গায়?? উপরে না নিচে??”

এই ঘটনার পর থেকে রাস্তাঘাটে ফ্রেঞ্চকাট কাউকে দেখলে আমারও কেমন সন্দেহ লাগে । খালি উপরে নাকি নিচেও- স্যারের এই বাতিক এর স্বীকার এখন আমিও আর কি।

# নাম্বার ৩

এই কাহিনীও দুই নাম্বার ঘটনার স্যারের কথা।কলেজে তার কয়েকদিন যাবার পর পরই খবর হলো যে স্যার নাকি বাবা হতে যাচ্ছেন।এটা শুনে স্যারের ক্লাসে আমাদের আলোচনার আরো একটা বিষয়বস্তু বাড়লো।স্যারের ক্লাসটা এখন যেন একেবারে রসে টইটম্বুর করে।অতঃপর কয়েক দিন যেতে না যেতেই সেই সুসংবাদও এল।স্যার অলরেডী বাবা হয়ে গিয়েছেন। তো আমরাও নেক্সট ক্লাসের অপেক্ষায়,স্যার কখন আসবেন।পরের ক্লাসে স্যার আসতেই আমার সেই ফ্রেঞ্চকাট উপদেষ্টা ক্লাসমেটই আবার আগবাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো-
-স্যার,আপনি কি ছেলের বাবা নাকি মেয়ের বাবা হইলেন??
আমরাও হাসিমুখে স্যারের দিকে চেয়ে। নতুন বাচ্চা জন্মের পথ ধরে আরো কোন নতুন ডায়লগের জন্ম হয় কীনা।
স্যার এবারো আমাদেরকে নিরাশ করলেন না।স্বভাবসুলভ মেকি গাম্ভীর্য মুখে ঝুলিয়ে ঘোষণা করলেন
“পরিবারে একটা নুুর সংখ্যা বাড়সে আর কি!!!”

(এই ডায়লগ মেলোডি পূর্ব ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত আরো কিছুদিনের জন্য চলিতে থাকিবে।)

৩,১৫৫ বার দেখা হয়েছে

৩০ টি মন্তব্য : “ডায়লগ মেলোডি ১.১ (মির্জাপুরিয়ান ভার্সন)”

      • সাব্বির (০৩-০৯)

        জিহাদ ভাই, আমরা ২টারে ই শেষ পর্যন্ত পাইয়া আসছি........তার মধ্যে ১ম জন আমাদের ফর্ম মাস্টার হয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত.....উনি আরো হ্যান্ডসাম হয়েছেন..........
        পরের জন আরো অনেক ডায়ালগ দিয়ে এখনও কলেজ কে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন....কিন্তু ক্যাডেট রা তার চেয়েও জালাময়ী ডায়ালগ দেয়........যেমন
        MCC র ৪০তম ব্যাচ (২০০২-২০০৮) এর ব্ল্যাকবোর্ড, এ স্যার এর নাম এর পাশে লেখা _______(bb)...........স্যার এসে বলে "কিরে ,নাম এর পাশে bb ক্যান?? bb মানে কি?? বাংলা ভাই? না বঙ্গবন্ধু ?
        পোলাপান এর তাৎক্ষনিক উত্তর , "না স্যার, ব াল ব্যাটা" :khekz:

        জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।

ফেসবুক মন্তব্য