আগের পর্বগুলো: প্রথম | দ্বিতীয় | তৃতীয় | চতুর্থ | পঞ্চম | ষষ্ঠ | সপ্তম
রায়হান ভাইয়ের মুখে ফ্রন্টরোল দেয়ার আদেশ শুনে প্রথমে অবাকই হয়েছিল মহিব। মনে মনে ভাবছিল রায়হান ভাই তো খুব শান্ত স্বভাবের মানুষ। কোনদিনও কোন জুনিয়রকে পানিশমেন্ট দেয়নি উনি। তাহলে আজ কেন এমন ব্যবহার করছে? তাই প্রথমে কি করবে বুঝতে পারছিলনা। পরক্ষনেই সে খেয়াল করল ভাইয়ার চেহারা কেমন যেন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। ভয়ে ভয়েই ফ্রন্টরোল শুরু করল মহিব। বাধ্য হয়ে ফাহিমও তাকে অনুসরন করল। গুনে গুনে ১০ টা করে ফ্রন্টরোল দিল দুজন।
- খবরদার, আর কখনো যদি ম্যাডামকে নিয়ে উল্টা পাল্টা কোন কমেন্ট করতে শুনি, থাবড়ে চোয়ালের সব দাঁত ফেলে দিব, বেয়াদব ছেলেপেলে কোথাকার!!!
শান্ত মানুষ হঠাৎ ক্ষেপে গেলে যে ভয়ঙ্কর রূপ নেয় এটা মহিব জানত। তাই রায়হান ভাইকে আর রাগার সুযোগ না দিয়ে বুদ্ধিমানের মতো কাঁদো কাঁদো গলায় মাথা নিচু করে সে বলল “জ্বি, আচ্ছা ভাইয়া”
রায়হান আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু মহিবের চেহারার দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলল না। অগ্যতা বিড়বিড় করতে করতে সে চলে গেল টুয়েল্ভ এর বি ফর্মের দিকে।
ফাহিম ক্ষেপে গেল মহিবের উপর।
- তোর জন্য আজকে হুদা কামে ফ্রন্টরোল দিলাম, তোরে কে বলছে ম্যাডামের কথা স্বীকার করতে?
- তুই বেশি বুঝিস। রায়হান ভাইয়ের চেহারা দেখস নাই, স্বীকার না করলে আরো খারাপ কিছু হইতে পারত। হয় সত্যি সত্যি থাপ্পড় মারত নাহয় কলেজ প্রিফেক্ট সাজিদ ভাইরে দিয়া এ্যাডজুটেন্টের কাছে কমপ্লেইন দিত
- “তাও ঠিক”, ফাহিম হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়তে নাড়তে বলল “রায়হান ভাইয়ের এই রকম চেহারা আগে কখনো দেখি নাই”।
এমন সময় ঘন্টা পড়ল। মহিব আর ফাহিম তাড়াতাড়ি ওদের ক্লাসের দিকে রওনা হলো।
১৮
ঘুমের মধ্যে কে যেন ডাকছে সাজিদ কে। খুবই পরিচিত কন্ঠ, অনেক আগে সে এই কন্ঠটি শুনেছিল। “সাজিদ, এই সাজিদ এদিকে আয়, এদিকে, এদিকে।” সাজিদ বিছানা ছেড়ে উঠল। আরে, এটা তো সেই সামিয়া আপুর গলা। স্পষ্ট শুনতে পেল সে। ঐতো পিছনের পাহাড়ের দিক থেকেই সামিয়া আপু ডাকছে। ধীর পায়ে দরজা খুলল সে। নিঃশব্দে এগিয়ে যেতে থাকল সে ঐ পাহাড়ের দিকে। আম গাছটার কাছে চলে গেল সে।
- কেমন আছিস রে সাজিদ?
সাজিদ চমকে উঠল। সত্যিই তো সামিয়া আপু বসে আছে আম গাছটার গোড়ায় হেলান দিয়ে। কাছে গিয়ে অবাক হয়ে সাজিদ বলল
- সামিয়াপু, এতদিন কোথায় ছিলে? কতদিন পরে এলে। আমি তোমার উপর রাগ করেছি
- আরে বোকা, এতদিন তো আমার আসার দরকার ছিলনা, সব ভালমতোই চলছিল। এখন আবার আসার প্রয়োজন পড়ল, আবারো বাড়াবাড়ি শুরু হয়েছে কলেজে, তাই এসেছি।
- কি ব্যাপার, বলতো?
- বলব, সব বলব। ৫ বছর আগে এ রকম হওয়াতে কলেজ প্রিফেক্ট মাসুদকে কিছু কাজ দিয়েছিলাম। ও সব ঠিকমতোই করেছিল, কেউ ধরতে পারেনি।
- জানি আমি, স্যারদের প্যান্ট আর সবার সাইকেল গায়েব হওয়া থেকে শুরু করে ভিপি স্যারের রহস্যজনক মৃত্যু এর সবই আমি শুনেছি, সাজিদ ভাই আমাকে রিউনিয়নে এসে সব বলেছিল।
- হুম্ম, আমিই ওকে জানাতে বলেছিলাম। আরও কিছু কাজ যে বাকি আছে।
- কি কাজ আপু?
- সময় হলে সব বলব। আপাতত এই শিকড়টা নে। খুব যত্ন করে রাখবি কিন্তু। পরে বলব কি করতে হবে।
সাজিদ লক্ষী ছেলের মতো হাত পেতে শিকড়টা নিল। কিছু একটা বলতে যাবে অমনি সামিয়াপু তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল
- আমার তাড়া আছে রে, আজ চলি। আবার আসব, ডাক দিলে চলে আসিস তাড়াতাড়ি, দেরী করিস না।”
সাজিদ ঘাড় কাত করে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। সামিয়াপু উঠে হাঁটতে হাঁটতে পাহাড়ের শেষ মাথার দিকে চলে গেল, যে জায়গা দিয়ে পাহাড়টা অনেকখানি কাটা।
————–
হাউস বেয়ারা গফুর ভাইয়ের ডাকে ঘুম ভাঙল সাজিদের। “সাজিদ ভাই উঠেন, নামাজ পড়বেন না?”
চোখ মেলে তাকাল সে। রাতের ঘটনাটা মনে পড়ে গেল। ও কি তাহলে স্বপ্ন দেখেছে? কিন্তু সবই তো তার স্পষ্ট মনে আছে, পিছনের পাহাড়ে যাওয়া, আম গাছটার নিচে বসা, সামিয়াপুর সাথে তো তার কথাও হয়েছে। সবই মনে পড়ছে তার। চোখ কচলাতে গিয়ে হাতটা মুখের কাছে আনতেই সে লাফ দিয়ে উঠে বসল। তার হাতে শিকড়। আরে এটা তো সেই শিকড়। সামিয়াপু যত্ন করে রাখতে বলেছিল। না, স্বপ্ন না, তার মানে সে সত্যিই পিছনের পাহাড়ে গিয়েছিল। বিছানা ছেড়ে উঠল সাজিদ। খুব সাবধানে কলেজ ব্যাগের এক কোনার পকেটে শিকড়টাকে লুকিয়ে রাখল সে।
১৯
সকাল থেকেই মাথার মধ্যে রাতের ঘটনাটা ঘুরতে লাগল সাজিদের। টেনশনে ঠিকমতো ব্রেকফাষ্টও করতে পারলনা। আজকে ১ম পিরিয়ডেই ম্যাডামের ক্লাস। ম্যাডামের দিকে কি ঠিকমতো তাকাতে পারবে সে? ম্যাডাম যদি ওর সাথে কথা বলে ও কি নার্ভাস হয়ে যাবে? নাহ্, কোনভাবেই নার্ভাস হওয়া যাবে না।
১ম পিরিয়ডের ঘন্টা পড়ল। সাজিদের হার্টবিট যেন বাড়তেই থাকল। ঐতো ম্যাডাম আসছে। এবার মনে হলো ওর হূদপিন্ডটা দেহের ভিতরে ড্রাম পিটাচ্ছে। আসলেই খুব নার্ভাস লাগছে তার।
ম্যাডাম ক্লাসে ঢুকলেন। এই সপ্তাহে ফর্ম লিডার রিয়াজ। সবাইকে বসে বসে সাবধান করাল সে।
- Sit easy. How are you boys?
- Fine, thank you mam (চিৎকার করে একজনের গলা অন্য সবার গলাকে ছাড়িয়ে বলে উঠল)
সবাই ঘাড় ঘুড়িয়ে সাজিদের দিকে তাকাল। বেশ অস্বস্তিকর একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেল সে।
- Anything wrong Sajid? (ভ্রু কুচকে ম্যাডামের প্রশ্ন)
- Yes, I mean no mam. Nothing, no problem at all. I was just telling that we all are very fine.
সাথে সাথে চারদিকে হাসির একটা রোল পড়ে গেল।
- Stop please. What makes u laugh? Is there any thing funny? (ম্যাডামের গলায় প্রচন্ড রাগ আর ক্ষোভ)
সাথে সাথে সমস্ত ক্লাস চুপ হয়ে গেল। পিন পতন নীরবতা। গত কয়দিনে কেউ এমন করে ম্যাডামকে রাগতে দেখেনি। তাই হকচকিয়ে গেল সবাই।
- How many present here, form leader?
- 24 mam, 1 in hospital (রিয়াজের উত্তর)
এমন সময় বেয়ারা এল ক্লাসের দরজায় “ম্যাডাম, ভিপি স্যার আপনাদের সবাইরে সালাম দিছে, জরুরী মিটিং আছে”
বেশ বিরক্ত হলেন সামিয়া জামান। বলা নাই কওয়া নাই, হুট করে ক্লাস টাইমে মিটিং ডেকে বসেন এই লোকটা। আশ্চর্য। এরকম হলে ক্যাডেটরা ভাল রেজাল্ট করবে কিভাবে?
- Okay boys, I will be back as soon as possible. Stay in your class & carry on self study. No gossiping, no noise, all right?
- (সবাই সমস্বরে) Yes mam.
ক্লাস সিট টু শান (রিয়াজের গলা)
সবাই বরফের মতো জমে গেল। ম্যাডাম চলে গেলেন। সাজিদ যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল। এই শীতের সকালেও ঘেমে গিয়েছে সে। পকেট থেকে রুমাল বের করে ঘাম মুছতে মুছতে ক্লাস থেকে বের হয়ে গেল সাজিদ। পিছনে সবাই যে আবার তাকে নিয়ে ফিস্ফিস্ শুরু করেছে এটা ঠিকই বুঝতে পারছে সে। করিডোরের কোনায় রাখা ওয়াটার ফিল্টারটার দিকে এগিয়ে গেল সাজিদ। প্রচন্ড পানির পিপাসা লেগেছে তার।
——————-
প্রিন্সিপাল স্যারের অনুপস্থিতিতে ভিপি স্যার একটু বাড়াবাড়িই শুরু করলেন মনে হচ্ছে সামিয়া জামানের কাছে। ক্লাস টাইমে কেন এ্যাথলেটিক্সের কনফারেন্স? আর, এক সপ্তাহের ভিতরে তিন তিনটা মিটিং করার মতো কি এমন জরুরী বিষয় আছে? চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ নিয়ে তাই কনফারেন্স হলে বসে আছেন তিনি। আজকের টুয়েল্ভের ক্লাসটা খুব ইমপরটেন্ট ছিল। সামনে ছেলেগুলোর প্রিটেষ্ট পরীক্ষা আর এখন কিনা এ্যাথলেটিক্সের কনফারেন্স!!! কলেজ অথরিটির কোন মাথা ব্যথা নাই, ক্যাডেটদের রেজাল্ট নিয়ে। এই সব নিয়ম কানুন একদম পছন্দ না তার। এসব ভাবতে ভাবতেই কনফারেন্স হলে ভিপি স্যারের প্রবেশ, পিছন পিছন ঢুকলেন নতুন এ্যাডজুটেন্ট মেজর নাদির। সবাই উঠে দাড়ালেন।
- প্লিজ সবাই বসুন। কেমন আছেন আপনারা?
- ভাল স্যার
- সরি, জরুরী ভাবে এই মিটিং টা ডাকতে হলো আমার, আমাদের এ্যাথলেটিক্সের ডেট অনেক এগিয়ে গিয়েছে, রোজার কারনে ডেটটা আগাতে হলো। এখন হাতে আর আছে মাত্র ১৪ দিন। তাই আপনাদের সবার দায়িত্বটা ডিস্ট্রিবিউট করে দিতে হচ্ছে এখনই। মাঠের এখনো অনেক কাজ বাকি। কিন্তু খুশির খবর হলো, এবার আমরা মাঠ সমান করার জন্য একটা ৫ টনি রোলার এনেছি। প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে আমার কথা হয়েছে। স্যার বলেছেন ওনার জন্য বসে না থেকে সব কাজ শুরু করে দিতে।
কনফারেন্স শেষ হলো দেড় ঘন্টা পর। সামিয়া জামানের মনটা খুব খারাপ। ক্লাস টাতো মিস হলোই, সাথে কনফারেন্সে সেভেনের বাচ্চাদের দিয়ে পিটি আর গেমস টাইমে রোলার টানানোর যে বর্বর সিদ্ধান্ত নেয়া হলো তাতে তিনি সহ বেশ কজন টিচার প্রতিবাদ করলেও ভিপি, দুই হাউস মাষ্টার আর ঐ নতুন এ্যাডজুটেন্টের জোরাজুরিতে টিকল না। আশ্চর্য! মানুষ এত পাষন্ড হয় কিভাবে? যে নরম হাতে থাকার কথা কলম সেই হাতে কিনা টানতে হবে রোলার? এতো পাশবিকতাকেও হার মানায়!
২০
- এই তোরা বসে বসে কি করছিস? ক্লাস সেভেন কে দিয়ে রোলার টানাচ্ছে অথরিটি, আর তোরা চুপ করে আছিস?
- কি করব আপু? আমাদের তো হাত পা বাঁধা। আমাদের কথা কে শুনবে?
- ছি! কর্মচারীদের কাজ ক্যাডেটরা করছে আর তুই কলেজপ্রিফেক্ট হয়ে চুপ করে দেখবি? ক্লাস সেভেন তো বাচ্চা ছেলের দল। ওদের দিয়ে এ কাজ করাচ্ছে, এটা কি ঠিক?
- একদম বেঠিক, কিন্তু কিভাবে কি করা যায়? আমার তো মাথায় কিছু আসছে না।
- হুম, এটার একটা বিহিত করতে হবে। শোন একটা বুদ্ধি আছে। তুই এ্যাডজুটেন্টকে গিয়ে বলবি ক্যান্টনমেন্ট থেকে আর্মির কোন ভারী গাড়ি লোনে আনার জন্য। ওটা দিয়ে রোলার টানা যাবে। খরচও হবে না, আর কাজটাও তাড়াতাড়ি হবে।
- “ঠিক, এভাবে বললে হয়তো এ্যাডজুটেন্ট না করতে পারবে না”, খুশি হয়ে বলল সাজিদ
- এই, আমি আজ যাই রে।
- আপু, আরেকটু বস না, তুমি প্রতিবার এভাবে চলে যাও কেন?
- (হাসি দিয়ে) সে তুই বুঝবিনা এখন, সময় হলে সব বলব। মনে করে কাল এ্যাডজুটেন্ট কে বলিস কিন্তু
- আচ্ছা
সামিয়াপু উঠে হাঁটতে লাগলেন আবার সেই পাহাড়ের কাটা মাথাটার দিকে। সাজিদ অস্বস্তি নিয়ে তাকিয়ে রইল সেই দিকে, আপুর কত সাহস! ঐদিকে যেতে কখনো সাহস হয়না তার। অনেক অনেক আগে নাকি ওখান থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে একটি ছোট মেয়ে আত্নহত্যা করেছিল। সেই থেকে ওদিকে কেউ রাতে তো দুরের কথা, দিনের বেলাতেও যায় না।
২১
(৩ দিন পরের ঘটনা)
আজকে সামিয়া ম্যাডামের ক্লাস নেই। এটা ভাবতেই একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস বের হয়ে আসল সাজিদের বুক থেকে। ইদানিং কি টেনশনেই না থাকে সে এই ম্যাডামের ক্লাসে। বারবার ঐ সামিয়াপুর সাথে এই ম্যাডামকে গুলিয়ে ফেলে সে। ইদানিং ম্যাডামের ক্লাসে সে কেমন যেন অন্যমনস্ক হয়ে যায়। সামিয়াপুর সাথে ম্যাডামকে মিলানোর চেষ্টাও করে। কোথায় যেন দুজনের মধ্যে একটা সূক্ষ মিল আছে, কিন্তু ধরতে পারেনা সে। এই পরীক্ষা করতে গিয়ে দুই একবার ম্যাডামের সাথে চোখাচুখিও হয়েছে তার। সাথে সাথে সে চোখ সরিয়ে ফেললেও ম্যাডামের চোখকে সে ফাঁকি দিতে পারেনি এটা সে জানে। তাই অস্বস্তির মাত্রাটা আরো বাড়ছে তার। ম্যাডাম যে কি ভাবছে এ ব্যাপারে, এটা নিয়ে আরেক নতুন টেনশন এখন তার। আচ্ছা, ম্যাডাম যদি একদিন ওকে সত্যি সত্যি ডেকে এভাবে তাকানোর কারন জানতে চায়, তাহলে সে কি উত্তর দিবে? সে কি তখন সত্যি কথা বলে দিবে? ম্যাডাম সব শুনে যদি বিশ্বাস না করে? যদি উল্টা তার নামে অথরিটির কাছে কমপ্লেইন করে? নাহ্, ম্যাডাম তা কখনোই করবে না। ম্যাডাম খুবই ভাল। খুবই কেয়ারিং। তাই ওরা সবাই ম্যাডামের খুব ভক্ত।
ভাল কথা, হঠাৎ তার মনে পড়ল গত ৩ দিন ধরে এ্যাডজুট্যান্টের কাছে যাবে যাবে করে যেতে পারেনি সে। একে তো প্রিটেষ্ট পরীক্ষার প্রেসার আবার অন্যদিকে এ্যাথলেটিক্সের প্র্যাকটিস। ২/৩ বার যাবার চেষ্টাও করেছিল সে, কিন্তু প্রতিবারই কোন ভিজিটর এসেছে নতুবা কোন গেষ্ট আছে এ্যাডজুট্যান্টের অফিসে এই অযুহাতে তাকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। নতুন এই এ্যাডজুটেন্টকে পছন্দ করেনা সে? আগের এ্যাডজুট্যান্ট মেজর গাফফার স্যার কত ভাল ছিল। প্রতিদিন তার সাথে কথা বলত, কোন সমস্যা আছে কিনা, টুয়েল্ভের ছেলেরা কি করতে চায়, সামনের পিকনকটা কোথায় করলে ভাল হয়, জিলা স্কুলের সাথে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ রাখবে কিনা আরো কত কি জিজ্ঞাসা করতো তাকে। আর এই নতুন এ্যাডজুট্যান্ট তার সাথে ঠিকমতো কথাই বলেনা। ভাব নেয় খুব বেশি। কিন্তু আজকে যে করেই হোক একাডেমিক আওয়ারেই সে যাবে এ্যাডজুট্যান্টের অফিসে। সেভেনের রোলার টানার ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলাটা বেশি জরুরী। এসব ভাবতে ভাবতে পিটির হুইসেল বেজে গেল। সাজিদ আবার এ্যাথলেটিক্সের ওপেনিং ডের প্রোগ্রামের রিহার্সেল করবে। তাড়াতাড়ি ড্রেস আপ করল সে।
আজকে পিটি টাইমে কেন যেন খুব আস্বস্তি লাগছে সাজিদের। মনের মধ্যে খচখচ করতে লাগল। রিহার্সেলের ফাকে ফাকে সামিয়াপুর কথা মনে পড়ছে একটু পর পর, কদিন ধরে আপু আর আসছে না। তার উপর রাগ করলো নাতো আবার? আজকে তার একদম মনযোগ নেই। কোন মতে পিটি টাইমটা শেষ হলে সে বাঁচে। একথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ পিটি টাইম শেষ হবার ঠিক একটু আগে চিৎকার, চেচামেচি কানে আসল সাজিদের। সেটা শুনে মাঠের আরেক প্রান্তে দৌড়ে গেল সে। আমিরুল ষ্টাফ পশুর মতো চিৎকার করছে। কি ব্যাপার? আশ্চর্য আমিরুল ষ্টাফ ক্লাস সেভেনকে এরকম গালাগালি করছে কেন?
একি? এ কি হলো? চমকে উঠল সাজিদ। ক্লাস সেভেনের ছেলেরা ধরাধরি করে রক্তাক্ত অবস্থায় কাকে যেন নিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালের দিকে,কাছে গিয়ে সে দেখল আরেকজন এখনো রোলারের নিচে চাপা পড়ে আছে, সেভেনের ছোট ছোট ছেলেরা রোলারটা সরানোর প্রাণপন চেষ্টা করছে। রক্তের বন্যা বইছে রোলারের নিচে । সাজিদের মাথায় যেন আকাশ টা ভেঙ্গে পড়লো। সেও তাড়াতাড়ি হাত লাগাল। এর মধ্যে দৌড়ে আসল আরো অনেকে। অনেক কষ্টে সবাই মিলে ধাক্কা দিয়ে ৫ টনি রোলারটাকে কোনমতে সরালো। কিন্তু ততক্ষনে যে অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে।
২২
অনির্দিষ্ট কালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষনা করা হলো। অনেক ক্যাডেট এর ইতিমধ্যে কলেজ আউট হয়ে গেলো। সাজিদও তাদের মধ্যে একজন। সেও প্রতিবাদ করেছিল, অনশন করেছিল, কলেজ অথরিটির বিরুদ্ধে মিছিলে করেছিল। তাই তাকেও কলেজ আউট করা হলো।
অনেকদিন ধরে সাজিদ বাসায় বসে আছে। কেমন যেন অস্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে সে। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করে না। ডাক্তারের কাছে তাকে নিয়মিত নিয়ে যাচ্ছে তার বাবা মা। সে নাকি হেলুসিনেশনে ভুগছে। রাতে নাকি ঘুমের ঘোরে হেটে বাসার বাহিরে চলে যায়, তাই ইদানিং তার ঘরে বাহিরে থেকে তালা দেয়া থাকে। গভীর রাতে দরজা ধাক্কিয়ে সে বলে “সামিয়াপু দাড়াও, আমি আসছি এখনই” কিংবা ঘুমের ঘোরেই “আমার ভুল হয়ে গিয়েছে, এই আমি এখনই এ্যাডজুটেন্টের অফিসে যাচ্ছি, ক্লাস সেভেনকে আর রোলার টানতে হবেনা” এই জাতীয় কথা বলে চিৎকার করে উঠে।
সামিয়া ম্যাডামকে নাকি এই ঘটনার পর কলেজে আর কখনো দেখা যায়নি। কোথায় চলে গিয়েছে কেউ জানে না। এদিকে সাজিদও হঠাৎ করে খুব চুপচাপ হয়ে গেল, কারো সাথে সে আর আগের মতো কথা বলে না। সাজিদের বাবা মা ছেলেকে নিয়ে খুব টেনশনে পড়ে গেলেন। ডাক্তার নাকি বলেছে তার উপর প্রচন্ড মানসিক প্রেসার পড়েছে। কিন্তু কোথায় সে তো দিব্যি ভাল আছে, কোন পাগলামো করছে না। সবাইকে সে চিনে। ঐ তো আব্বু, আম্মু, ছোট বোন ঝুমু সবাইকে সে চিনতে পারছে। শুধু সামিয়াপুটা এখন আর আসে না। সে রাতে ঠিকই সামিয়াপুর ডাক শোনে, কিন্তু কেন যেন ও আপুর কাছে এখন আর যেতে পারেনা।
২৩
- কেমন আছিস রে সাজিদ?
- ভালনা আপু, তুমি আর আসনা। কিভাবে ভাল থাকি? তুমি কি আমার উপর রাগ করে আছ?
- হ্যাঁ
- কি করব বল? আমি তো এ্যাডজুটেন্টের অফিসে যেতেই চেয়েছিলাম, কিন্তু পরিস্থিতির কারনে সম্ভব হয়নি। আমি অনেক কেঁদেছি আপু
- কেঁদে এখন আর কি হবে, যা হবার তাতো হয়েই গিয়েছে। ওরা তো আর ফিরে আসবে না। দুটি নিস্পাপ প্রাণ ঝরে গেল।
- ওরা এখন কেমন আছে আপু?
- (হাসি দিয়ে) ভাল। ওদের কবরের আযাব মাফ হয়ে গিয়েছে। জান্নাতবাসী হবে ওরা দুজন।
শুনে খুব খুশি হলো সাজিদ। কিছুটা হলেও যেন শান্তি পেল সে। এতদিন তার মধ্যেও একটা অপরাধবোধ কাজ করছিল।
- আপু ওদের সাথে তোমার দেখা হয়?”
- হ্যাঁ, আমরা এখন একই ঠিকানার বাসিন্দা। আমরা ভালই আছিরে, কোন চিন্তা করিসনা। কিন্তু আমাদের মতো আর কাউকে যেন এভাবে কষ্ট পেয়ে এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে না হয়, বুঝলি? কথাটা মনে থাকে যেন।
সুবোধ বালকের মতো আবারো ঘাড় কাত করে সাজিদ।
- আমি আর এভাবে আসব নারে। আজই আমার তোর সাথে শেষ দেখা।
- (অবাক হয়ে) কেন আপু??? আমি তোমাকে যেতে দিব না (সাজিদের গলায় প্রতিবাদ)
- (হেসে) বোকা ছেলে, আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে কেউ ফিরে আসতে পারেনারে। শুধু আমার একটা অপূর্ণ শখ পূরণ করার জন্য তোর সাথে দেখা করতে আসতাম। আমার এই শখটা পূরণ কর।
- কি শখ আপু?
- আমার ছোট বেলার সেই স্কুল “অংকুর” এর পূনরুথথান চাই আমি। যেখানে আবার সবাই একসাথে লেখাপড়া করবে। সবাই হাসিখুশি থাকবে, আনন্দে থাকবে, সুখে থাকবে।
- কিভাবে?
- তোরা করবি, তোরা সব ক্যাডেটরা মিলে তা করবি। এমন একটা ক্যাডেট কলেজ বানাবি যেটা হবে “অন্য রকম ক্যাডেট কলেজ”। কি পারবি না?
- অবশ্যই পারব আপু, আমাদের পারতেই হবে।
- শোন্, এই কলেজে ক্যাডেটদের কোন বাধাধরা নিয়ম থাকবে না, ছেলে মেয়ে একসাথে লেখাপড়া করবে, এখানে পড়াশোনার কোন বয়স থাকবে না, ছোট বড় সবাই একসাথে পড়বে। সবাই এখানে শিখতে আসবে, জানতে আসবে। জানার তো কোন শেষ নাই, শেখারও কোন বয়স নাই। এই কলেজে আলাদা কোন টিচার থাকবে না, থাকবে না কোন প্রিন্সিপাল, ভিপি, বদরাগী কোন এ্যাডজুট্যান্ট, থাকবে না কোন অমানবিক কার্যকলাপ। এখানে ভর্তি হতে কোন ফি লাগবে না, লাগবে না কোন পড়াশোনার খরচ। শুধু একটা ভাল মন থাকলেই এই কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে।
- আর?
- আর, এই কলেজে সব ভাল জিনিসের চর্চা হবে। কি গল্প, কি কবিতা, ছড়া, উপন্যাস, কাব্য, কৌতুক, নাটক, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ইত্যাদি প্রগতিশীল সব বিষয়ের চর্চা হবে এখানে। এখানে খোলা মনে সবাই কথা বলবে, আলোচনা করবে, শেয়ার করবে নিজেদের মধ্যে সুখ, দুঃখ, হাসি-কান্না, আবেগ, অনুভুতি, সব সব ভাল কিছু। কি পারবিনা?
- পারব আপু, আমাকে পারতেই হবে।
- তাহলে আমার দেয়া শিকড়টা এবার ফেরত দে। এটার আর কোন প্রয়োজন নেই এখন।
সাজিদ শিকড়টি ফেরত দিল। সামিয়াপু ধীরে ধীরে চলে গেল। একবার পেছন থেকে ডাকবে ভেবে হাতও বাড়াল। কিন্তু তার কন্ঠ দিয়ে কোন আওয়াজ বের হলো না। সামিয়াপু চলে যাচ্ছে, আর আসবেনা। বেশ কয়েকবার চিৎকার করে আপুকে ডাকার নিস্ফল চেষ্টা করল। তার দুচোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল। আরো কিছুদূর গিয়ে সামিয়াপু পিছন ফিরে তাকাল। হাসি দিয়ে বলল “অন্যরকম ক্যাডেট কলেজটা চালু কর তাড়াতাড়ি, তাহলে দেখবি আমি আবার চলে আসব, তোদের এই নতুন কলেজে ভর্তি হব।” এর পরপরই সামিয়াপু অদৃশ্য হয়ে গেল।
২৪
মার ডাকে ঘুম ভাঙল সাজিদের। কিরে তোর গাল ভেজা কেন? ঘুমের মধ্যে কাঁদছিস নাকি? লাফ দিয়ে উঠে বসল সাজিদ। তাইতো, দু গাল বেয়ে পানি পড়েছে তার। চেয়ারের উপর রাখা টাওয়ালটা নিয়ে চোখ, মুখ মুছল সে। সাথে সাথে মনে পড়ল স্বপ্নের কথা। তাড়াতাড়ি সে তখন তার কলেজের ব্যাগটা আনল। ব্যাগের পকেটে রাখা সেই শিকড়টি খুজল সে। নাহ্, শিকড়টি সেখানে নাই। অবাক চোখে সে চারপাশে তাকাল। আজকের দিনটা কেমন যেন অন্যরকম লাগছে তার কাছে। তার ভিতর আগের মতো সেই অস্থিরতা টা নাই, বুকের ভিতর জমাট বাধা কষ্টটাও এখন আর নেই। মাথার মধ্যে কেবল একটা লাইন ঘুরপাক খেতে লাগল “অন্যরকম ক্যাডেট কলেজ”।
সামিয়াপু আসবে, সত্যি আবার আসবে? আনন্দে সাজিদের চোখে মুখে হাসি ফুটে উঠল। সে যেন এবার তার স্বাভাবিক জীবন ফেরে পেল। সত্যিই দারুন আইডিয়া তো। নাস্তা সেরেই সে ফোন দিল তার বন্ধু জাহিদ, আশিক আর রিজভী কে। ওরা আবার সাজিদের খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড। সবাই এখন আই ইউ টির মেধাবী ষ্টুডেন্টস্। আইডিয়াটা তাদের খুলে বলল সে’
আইডিয়াটা সোনার সাথে সাথেই ওরা সবাই লুফে নিল। অল্প কদিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে এমনই একটা “অন্য রকম ক্যাডেট কলেজ” তৈরী করতে খুব একটা বেগ পেতে হলোনা তাদের। দেখতে দেখতে অনেক সিনিয়র, জুনিয়র ক্যাডেটরা এসে দলে দলে সেই কলেজে ভর্তি হতে লাগল। অল্প কদিনের মধ্যেই সামিয়াপুর সেই অংকুর অংকুরিত হয়ে রূপ নিল অন্য রকম এক ক্যাডেট কলেজের যা এখন “সিসিবি” নামেই বহুল পরিচিত এবং বেশ জনপ্রিয়।
———————————–
[ কিছু কথাঃ
১। এই গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, কিছু কিছু ঘটনা, চরিত্র বা নাম কারো সাথে মিলে গেলে তা একান্তই কাকতাল মাত্র।
২। চরিত্রগুলোর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে আমি ভিন্ন নাম ব্যবহারের পক্ষপাতী ছিলাম। কিন্তু আগের পর্বগুলোতে বেশ কিছু পরিচিত নাম ব্যবহত হওয়াতে কাহিনীর ধারাবাহিকতা ও সামঞ্জস্য রক্ষার স্বার্থে বাধ্য হয়েই পুনরায় নামগুলো ব্যবহার করতে হয়েছে। এ নিয়ে পাঠকদের কেউ দয়া করে বিভ্রান্ত হবেন না।
৩। পুরানো লেখা ঘাটতে গিয়ে গতকাল এই ব্লগে হঠাৎ আবিস্কার করলাম ৭ পর্বের এই অসমাপ্ত গল্পের সিরিজটা। ধারাবাহিক এই গল্পের একেকটি পর্ব একেকজন (অবশ্য কামরুলতপু একাই মোট ৩টি পর্ব লিখেছিল) লেখার কারনে আমার কাছে আরো মজা লাগল। বেশ কবার গল্পের কাহিনী বিভিন্ন দিকে মোড় নিয়ে শেষের দিকে জটিল আকার ধারণ করেছিল। দু একজন ব্লগার পরবর্তী পর্বটি (৮ম পর্ব) লিখবেন বলে কথা দিলেও হয়তো সময়ের অভাবে তারা আর লিখেন নি। এমতাবস্থায় আমি এই অসমাপ্ত জটিল গল্পটাকে সরল করে নিয়ে এসে একটা ফিনিশিং দেবার দুঃসাহস দেখালাম। লেখক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা অতি সামান্য। তাই এই আনাড়ী লেখাটিকে আরো অনেক সুন্দর ও আকর্ষনীয় করে গুছিয়ে উপস্থাপন করার জন্য ব্লগের খ্যাতিমান লেখকদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। এ ব্যাপারে কেউ এগিয়ে এলে তাকে আমার পক্ষ থেকে জানাব সুস্বাগতম। ধন্যবাদ]
শেয়ার করুন


৬২ টি মন্তব্য
সারাদিনে মাত্র একবার ১ম হইছি

[ জবাব দিন ]
শেষটা চমৎকার…

[ জবাব দিন ]
ধন্যবাদ
[ জবাব দিন ]
পুরাটাই চমৎকার। কিন্তু শেষ করে দিলেন যে হঠাৎ?
রহমান ভাই, আপনার লেখার হাত দারুণ। এক নিঃশ্বাসে পুরাটা পোর্লাম।

[ জবাব দিন ]
ধন্যবাদ
। শেষ করলাম ইচ্ছা করেই। ঝুলিয়ে রাখলে তোমরা আবার ডজিং মারো যে তাই 
আসলে, সত্যি বলতে কি ফিনিশিংটাই মাথায় আগে চলে এসেছিল, তাই আগের ঘটনার সাথে জোড়াতালি দিয়ে দিলাম শেষ করে। এখন তোমরা নতুন কোন সিরিজ শুরু কর
।
[ জবাব দিন ]
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে বিরাট টাশকি খেলাম। এই সিরিজটা আমরা যারা পুরান পাপী এইখানে তাদের খুবই ভালোবাসার সিরিজ। কিন্তু টেনে নেওয়া হচ্ছিল না। ভাই আপনারে
এখন যাইয়া পড়ি।
[ জবাব দিন ]
এখন পুরান লেখাগুলার লিংকটা এইটার সাথে দিয়ে দাও দেখি
[ জবাব দিন ]
রহমান, ভালো লিখছিস দোস্ত

)
গল্পেও তোর হাত দারুন পাকা দেখছি
আর একসাথে কয়েকটা পর্ব টেনে শেষ করে দেয়াটাও ঠিকাছে মনে হয় (আমার মতে
আর কি দরকার ছিলো আমার দৃষ্টি আকর্ষন করার বল


আমরাতো আছি তোদের জন্যেই
[ জবাব দিন ]
ঠিক, আমার কাছে এই লেখাটিই ভাল মনে হচ্ছে…!!

সবচেয়ে বড় কথা, আমার আপাতত সময় নেই…
[ জবাব দিন ]
সময় কখন হবে শুনি?
[ জবাব দিন ]
ফৌজি, আমার হাত মোটেও পাকা না, এখন মনে হচ্ছে অন্য কেউ লিখলে আরো অনেক সুন্দর হতো। যাহোক ভাল লেগেছে শুনে খুশি হলাম দোস্ত, থ্যাংকস্
[ জবাব দিন ]
রহমান ভাই,লেখক হিসেবে আপনি বস তা জানতাম কিন্তু এতটা দুর্দান্ত তা এই মাত্র টের পেলাম।বহু পুরনো একটা সিরিজকে যেভাবে পরিনতি দিয়েছেন-তাও আমাদের জীবনের সাথে এবং সিসিবিকে সম্পৃক্ত করে-আমার এইরকম লিখতে কয় বছর লাগবে কে জানে।
ধুস-সিসিবিতে আসলেই আজকাল ইনফেরিওরিটি কম্পলেক্সে ভুগি
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
সহমত।
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
বাচ্চা লোক, তোমাদের কথা দেখে বড় চিন্তিত হইলাম। নিজের বাড়িতে কম্পলেক্স, তাও আবার ইনফিওরিটি

তোমাদের সবাই জামাতে ১০০ ফ্রন্টরোল দাও। আর এই রাস্তা দেখানোর জন্য মাস্ফুর জন্য ২ (দুইটা) ইডি।
আহসান একটু দেখবা যাতে পোলাপাইন ডজ মারতে না পারে। সানা ভাইয়ের চোখে পড়ার আগে কাম সারতে হবে। না হলে উনি আরও বেশি ইস্যু করে দিতেন পারেন। ফল্টতো সেই রকম। প্রথম শ্রেনীর।
[ জবাব দিন ]
এইটা যেন কে কইছিল????

[ জবাব দিন ]
ওই টিউব লাইট, হুদা ডাউটের জন্য, তোমার লাইগা এক্সট্রা আরও ১০০ টা। আমি কমেন্টটার সাথে
এইটা দেই না? তখন বুঝতে পার নাই মাইন্ড খাইতেছি?
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
তাইলে ভাই আরো ১০০ যোগ করেন। কারণ আপনারে অনুসরণ করেই ওই কমপ্লেক্সের কমেন্টটা কপি করছি।
আমি আসলে কমপ্লেক্সে নাই বেশিপ্লেক্সে আছি। এ জন্যই বেশি বুঝছি….ভাবছি কমপ্লেক্সের কমেন্ট দিয়া আপনে নিজেই অবাক। মাস্ফু আপনার মনের কথা কইছে মনে হয়

যাউগগা ওকে টিটো স্টার্স্ট ফনট্রুল
…………………………………………………………………………………………
[ জবাব দিন ]
ফ্রন্টরোল শুরু

[ জবাব দিন ]
রহমান ভাই, আপনি যে কি জটিল কাজটা করলেন নিজেই বুঝলেন না…
এই সিরিজটা শুরু করে আর শেষ হচ্ছিল না। এটা আমাদের সবার খুবই প্রিয় একটা সিরিজ, খুব বেশি প্রিয়। সেই কবে শুরু হয়েছিল…যখন কয়েকজন মাত্র ছিল সিসিবির সদস্য, আমরা নিজেদের লেখায় নিজেরাই পিঠ চাপড়া চাপড়ি করে নিজেরাই ভাব নিতাম, আহা সেই সব দিনগুলা…

আপনি শেষ করে একটা কাজের মতন কাজ করসেন ভাইয়া। আপনাকে অনেক অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ।
শেষটা খুবই সুন্দর হয়েছে, এটা নিশ্চুই না বললেও চলে?
[ জবাব দিন ]
ধন্যবাদ

শেষটাকে প্লট ধরেই আগের সিরিজ গুলোর সাথে জোড়াতালি দিয়েছি
[ জবাব দিন ]
তোমার লেখার হাত তো দারুন, একদম টানা পড়া যায়।
[ জবাব দিন ]
গুরু, আপনি এভাবে বললে তো সত্যিই লিজ্জা লাগে আমার

ধন্যবাদ
[ জবাব দিন ]
সিসিবির ব্যাখ্যাটি চমতকার। আর লিখেছেনও সেইরকম

[ জবাব দিন ]
তোমার ধারে কাছেও না টিটো
। তোমার লেখা অসাধারন লাগে আমার কাছে
[ জবাব দিন ]
রহমান ভাই, চমৎকার লিখচছেন, অসদধারন একটা ফিনিশিং হয়েছে


একটা কথা, আগের গুলোর লিঙ্ক দিলে নতুন্দের জন্য মনে হয় সুবিধা হত
[ জবাব দিন ]
ধন্যবাদ রেজওয়ান, এটা আমিও লেখাটা জমা দেয়ার সময় ভেবেছিলাম। আমার ধারণা ছিল লেখাটা ব্লগে পাবলিশ হওয়ার সময় মডারেটররা অটোমেটিক ভাবে এটা করে দিবে।
আগের লিংকগুলোর জন্য কামরুল/জিহাদ/মুহাম্মদ বা অন্য কোন এক্সপার্টদের সাহায্য চাচ্ছি
[ জবাব দিন ]
রহমান ভাই, আপনি সিসিবিকে একটি দায়বদ্ধতা থেকে রক্ষা করলেন…

ফিনিশিংটা অস্সাধারণ হইছে…
[ জবাব দিন ]
[ জবাব দিন ]
সবার সুবিধার্থে আগের লিঙ্কগুলো দিয়ে দিলাম।
রহমান ভাই, আপনি পোস্টে আপলোড করে দিলে ভালো হয়।
অন্যরকম ক্যাডেট কলেজ ৭ http://www.cadetcollegeblog.com/kamrultopu/501
অন্যরকম ক্যাডেট কলেজ ৬
http://www.cadetcollegeblog.com/kamrultopu/289
অন্যরকম ক্যাডেট কলেজ ৫
http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/198
অন্যরকম ক্যাডেট কলেজ ৪
http://www.cadetcollegeblog.com/kanak1150/188
অন্যরকম ক্যাডেট কলেজ ৩
http://www.cadetcollegeblog.com/kamrultopu/181
অন্যরকম ক্যাডেট কলেজ ২
http://www.cadetcollegeblog.com/muhammad/178
অন্যরকম ক্যাডেট কলেজ ১
http://www.cadetcollegeblog.com/mohib/173
[ জবাব দিন ]
অনেক ধন্যবাদ।

মুহাম্মদ মনে হয় কাজটা এর মধ্যে করে ফেলেছে। তোমাদের দুজনকেই ধন্যবাদ
[ জবাব দিন ]
সব লিঙ্কগুলা দিয়া যে একটা কমেন্ট দিলাম ওইটা গেলো কই???

[ জবাব দিন ]
আছে তো, এইটার উপরের কমেন্টটাই তো, নাকি?
[ জবাব দিন ]
কাজের কাজ করছেন একটা। উপরে লিংকগুলো যোগ করে দিছি। আর “অন্যরকম ক্যাডেট কলেজ” নামে একটা ট্যাগও যোগ করা হইছে। এই ট্যাগে গেলেও সবগুলা পর্ব একসাথে পাওয়া যাবে।
লেখাটা এখনও পড়ি নাই। পড়ার পর লেখা নিয়া কমেন্ট করব।
[ জবাব দিন ]
তোমাকেই খুজছিলাম মুহাম্মদ, লিংক গুলো এ্যাড করতে পারছিলাম না, আমার পিসিতে সমস্যা। অনেক ধন্যবাদ
[ জবাব দিন ]
লেখাটা পড়ে শেষ করে দুপুরে আমি একটা কমেন্ট দিয়েছিলাম। সেইটা দেখি নাই।

রহমান ভাই, আপনার ব্লগে জ্বিনের আছড় পড়ছে। তাড়াতাড়ি কিছু একটা করেন।
[ জবাব দিন ]
আসলেই জ্বিনের আসর পড়ছে। আমার পিসিতেও অনেক কিছু ঠিকমতো আসতেছে না।
মডারেটরদের দৃষ্টি আকষন করছি
[ জবাব দিন ]
রহমান, আগেরগুলো পড়া ছিল না। তোমারটার সুযোগে পুরো সিরিজ শেষ হলে। খুব ভালো আর মজা লেগেছে। তোমারটা তো জোস। মোটেও মনে হয়নি গল্প লেখাটা তোমার জন্য নতুন। চেষ্টা চালিয়ে যাও।
[ জবাব দিন ]
অনেক ধন্যবাদ লাবলু ভাই
। আপনার মতো মানুষ আমার এই সামান্য লেখার প্রশংসা করছে, এটা ভাবতেই আমি আকাশে উড়ছি
।
নির্বাচনের এই শত ব্যাস্ততার মাঝেও আপনি এতটা সময় সিসিবিতে ব্যয় করছেন, দেখে আমি সত্যি বিস্মিত। অনেক অনেক প্রেরণা দিচ্ছেন আপনি আমাদের। আপনাকে
[ জবাব দিন ]
রহমান ভাই,


ফেরাস্টে গল্পখান আবার শুরু করার জইন্য
সিরুম হয়ছে…
কিছু পরিচিত নাম দেখলাম ভাই,
কলেজের শেষের দিকে পাইছিলাম হাউসে।
নীতিবান, নিষ্ঠাবান…। অনেক কিছু শিখছি।
[ জবাব দিন ]
কিছু কিছু নাম অটোমেটিক চলে আসে। গাফফার স্যারকে কলেজে না পেলেও পিজিআর এ পেয়েছিলাম ২ বছর। একসাথে বিএমএ তে গিয়েছিলাম ৫৩ লং কোর্সের পাসিং আউটের সময় ভি আই পি ডিউটিতে। স্যারের হাতের ক্যাডেট সেবার সোর্ড পেল। স্যারের খুশি দেখে কে? প্রায়ই আমাদের কলেজের অনেক গল্প করতেন আমার সাথে। উনি নিজে কিন্তু এসসিসি র। কিন্তু আমার কাছে মনে হতো উনি বুঝি সিসিসির। এতটাই ভালবেসেছিলেন উনি সিসিসি এবং সিসিসির ক্যাডেটদের।
হাউস বেয়ারা গফুর ভাই যে মান্নান ভাইয়ের চেয়ে অনেক ভাল ও সৎ ছিলেন এটা নিশ্চয়ই তুমিও স্বীকার করবা। তাই ইচ্ছা করেই এই নামটা ব্যবহার করলাম। এই মানুষগুলো (হাউস বেয়ারারা) কত কষ্ট করে, কিন্তু এদের জীবন কত দুঃখ, কষ্টের চিন্তা করি মাঝে মাঝে। ভাগ্য কখনো বদলায়না তাদের …
[ জবাব দিন ]
আসলেই ভাই…
গাফফার স্যার হাত দিয়ে তৈরী করে গিয়েছিলেন ক্যাডেটদের। উনার কারণেই আমাদের লিডিংয়ের সময় ভলিবলে চ্যাম্পিয়ন আর বাস্কেটে তৃতীয় হয় (যদিও উনি ছিলেন না শেষদিকে), এই ধারা এখনো বজায় রেখেছে জুনিয়র ব্যাচ গুলাও। একটা কথা সবসময় বলতেন,
“first deserve; then desire”
গফুর ভাই পুরা মাটির মানুষ।
বলেই-ত দিলেন ভাই।
[ জবাব দিন ]
রহমান ভাই, প্রথমেই অসংখ্য ধন্যবাদ আমার খুব খুব প্রিয় সিরিজটা নিয়ে লিখার জন্য।
চমৎকারভাবে এই সিরিজটা শেষ করার জন্য।
এরপর আপনাকে
আপনার লেখার হাত খুব ভালো ভাইয়া। ভাগ্যিস, আপনি এই ব্লগে যোগ দিয়েছিলেন!
[ জবাব দিন ]
ধন্যবাদ

আর কত ডজ মারবা তানভীর? লেখা কন্টিনিউ করছনা কেন? এক “ভাল লাগে” দিয়ে কতদিন চালাবা? তুমি তো এত ডজার ছিলানা
তাড়াতাড়ি লেখা জমা দাও 
[ জবাব দিন ]
ভাইয়া অসাধারণ। খুব ভালো লেগেছে। আমার সবসময় এটার কথা মনে হত। আর আমি নিজে ৩ পর্ব লিখেছিলাম বলে আমার এইটার প্রতি ভালবাসা বেশি ছিল। অনেকদিন পরে এইটা দেখে খুবই ভাল লাগছে।
[ জবাব দিন ]
ধন্যবাদ তপু । তোমার কমেন্টের অপেক্ষায় ছিলাম আমি। কারন এই সিরিজের পেছনে তোমার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। ফিনিশিং টা তুমি দিলে অনেক অনেক ভাল হতো আমি জানি। কিন্তু সিরিজটা অসমাপ্ত থেকে গিয়েছিল, তাছাড়া শেষ না করলে আবারো ঝুলে থাকার সম্ভাবনা ছিল। তাই দিলাম শেষ করে। তোমার ভাল লেগেছে জেনে আমারো ভাল লাগছে

[ জবাব দিন ]
কয়েকদিন ধরে পুরোনো লেখা গুলো পরি পরি করেও পড়া হচ্ছিল না। আজকে সময় পেয়ে পরলাম। চমৎকার একটা গল্পের চমৎকার একটা ফিনিশিং…


বস, একটা কথা, শিকরের ব্যাপারটা বুঝলাম না…
[ জবাব দিন ]
ধন্যবাদ
। তোমার এই কমেন্টটা আজ চোখে পড়ল। তাই জবাব দিতে দেরী হয়ে গেল।
এই সম্পূর্ণ সিরিজটাই কিন্তু কাল্পনিক। তার পরও এর মধ্যে কিছু কিছু ঘটনায় বাস্তবতার মিল খুজে পাওয়া যায়। কাল্পনিক হলেও এই ব্যাপার গুলোর সাথে আমি চেষ্টা করেছি বাস্তবের একটা যোগসূত্র বা সেতুবন্ধন তৈরী করার। শিকড় টা ছিল এমনই এক সেতুবন্ধন।
শিকড় দিয়ে আরো কিছু করানোর প্ল্যান ছিল শুরুতে কিন্তু পরে দেখলাম বেশি বড় হয়ে যাচ্ছে গল্পটা। তাই শিকড়টা ফেরত দিয়ে দিলাম, ঝামেলাও শেষ
। ইনফেক্ট শিকড়ের ব্যাপারটা এখানে রহস্যময়ই রয়ে গিয়েছে
।
কিছু কিছু ব্যাপার রহস্যময় থেকে যাওয়াই ভাল
। অনেক সিনেমাতে দেখনা, শেষে একটা ইস্যু রেখে দেয় যাতে পরের পর্ব বানানো যায়। চাইলে এই শিকড় নিয়ে আবার সিরিজ/ পরের পর্ব শুরু করে দিতে পার :D। ইয়্যু আর অলওয়েজ ওয়েলকাম 
[ জবাব দিন ]
রহমান ভাই, গল্পটার যেহেতু সম্ভাব্য সবচেয়ে সুন্দর ফিনিশিং হইছে- সেহেতু ওটা আবার শুরু করার কোন মানে নাই…
আর আপনার কথা মতন
কিছু রহস্য থাকুক না…!
সেই এক্স-ফাইল্স এর মত- The truth is out there…
[ জবাব দিন ]
একদম ঠিক, যেভাবে সংগীত জগতের মুকুটহীন সম্রাট বাচ্চু কাক্কা বলেছেন,
[ জবাব দিন ]
এই লেখাটি চলছিল যখন তখন আমি সিসিবিতে ঢুকি।এবং এই লেখাটি বিশেষভাবে আমাকে আকর্ষণ করে।এমনকি এটার এক পর্ব লিখার জন্য আমি মনে হয় হাতও তুলতে চেয়েছিলাম।
তারপরে নানা ব্যস্ততার কারণে এবং আমার ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধরণের ঝামেলা ঘটে যাওয়ায় সিসিবি তথা ইন্রারনেট দুনিয়া থেকেই সরে ছিলাম অনেক দিন।
এই লেখার ফিনিশিংটা অসাধারণ হয়েছে।
আমার খুব ভালো লাগলো।
গল্পের সামিয়া আপুর স্বপ্নের জন্য (সিসিবি) অনেক ভালোবাসা রেখে গেলাম।
[ জবাব দিন ]
আমিন,
কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ। তোমাদের সবার কাছে ফিনিশিংটা ভাল লেগেছে জেনে আমারও ভাল লাগছে।
আশা করি তোমার ঝামেলা শেষ হয়ে গিয়েছে এবং এখন থেকে আবার নিয়মিত থাকবে সিসিবির সাথে। ধন্যবাদ
[ জবাব দিন ]
চোখে পানি চলে আসার মতো…

[ জবাব দিন ]
অনেক অনেক ধন্যবাদ সামীউর

সম্ভবত পাঠকের কাছ থেকে একজন লেখকের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমি কোন লেখক নই, কিন্তু তারপরও তোমার এই এক লাইনের মন্তব্যে অনেক বেশি উৎসাহ ও প্রেরণা পেলাম। ভাল থেকো
[ জবাব দিন ]
কোনখান দিয়া এই লেখাটা পড়ি নাই, অনেক্ষন ধরে চিন্তা করতে ছিলাম। অবশেষে বের করতে পারলাম যে, ওই টাইম এ দেশের বাইরে থাকার কারনে মিস হয়ে গেছে। জটিল । অসাধারন। নাহ, লেখা ছাইড়া দিতে হইবো।
[ জবাব দিন ]
লেখা ছাড়ার কোন কারন নাই। অনেকদিন ছবি ব্লগ দাওনা যে?
[ জবাব দিন ]
বলতে গেলে প্রায় একটানে গল্পগুলো (পুরো সিরিজটা) পড়ে শেষ করলাম। সকল লেখক যারা এখানে অবদান রেখেছেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন। শেষ সিরিজটা সত্যিই মনে রাখার মত হয়েছে। তবে আমার একান্ত ব্যক্তিগত কিছু অভিমত রয়েছে। খুব দ্রুতই সেগুলো শেয়ার করব আশা করছি।
[ জবাব দিন ]
অসাধারন বললেও অনেক কম বলা হয়ে যায় ভাইয়া। এরচেয়ে ভালো ফিনিশিং বোধহয় আর হতে পারে না। এখন পর্যন্ত আমার পড়া সিসিবির বেস্ট লেখা এটা।
পড়তে গিয়ে চোখটা মনে হয় একটু ভিজে গেল।
[ জবাব দিন ]